আমাদের বাউফলকনকদিয়াসারাদেশ

বাউফলের কারখানা: নদীতে বিলীণ পূর্বপুরুষের সব স্মৃতি, অনিশ্চিত জীবন তাদের

বর্ষা মৌসুম আসতে না আসতেই পটুয়াখালীর কারখানা নদীতে শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন। বড়ই দুর্ভাগা নদী পাড়ের মানুষ। দেখারও যেন কেউ নেই। এরইমধ্যে নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে বাউফলের সহাস্রাধিক বসতবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

স্থায়ীভাবে বেড়িবাঁধ মেরামত না হওয়ায় এই মওসুমে নদীপাড়ের ১০০ পরিবার কাটাচ্ছে শঙ্কায় ঘেরা এক মানবেতর জীবন।

সরেজমিনে দেখা যায়, কারখানা নদীর অব্যাহত ভাঙনে বাউফলের কয়েকটি গ্রাম নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। ঘরবাড়ি, ফসলের ক্ষেত, গাছপালা সব হারিয়ে নিঃস্ব এসব গ্রামের শত শত পরিবার৷

চিরতরে মুছে গেছে অনেকের ঘড়-বাড়ির শেষ স্মৃতিটুকু। সব কিছুর সঙ্গে ভেসে গেছে যেন দুচোখের স্বপ্নও। এমন অবস্থায় হতবিহ্বল তারা।

পূর্বপুরুষের ভিটে-মাটি ও স্মৃতি হারানো মানুষগুলো অসহায় হয়ে আশ্রয়ের জন্য ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে। কাটাচ্ছেন মানবেতর জীবন। ত্রাণের বদলে তারা এখন চায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্বাস মিয়া বলেন, আমি গত চার বছর আগে এনজিও থেকে লোন নিয়ে একটি ঘর তৈরি করেছি, কিন্তু ভাঙনে এই বছর আমার বাড়ি-ঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

আমি এখন নিঃস্ব হয়ে গেছি। এখন যদি স্থায়ীভাবে বেড়িবাঁধ না করা হয় তাহলে বাকি যে সম্বুলটুকু আছে সেটুকুও হারাতে হবে আমাদের সবার।

হোসনে আরা বলেন, আমার বিয়ে হয়েছে আজকে ২২ বছর, এখানে আমার শ্বশুর বাড়ির একটি বড় কবরস্থান ছিল। যেখানে শায়িত আমাদের প্রিয়জন। তাদের সবার শেষ অস্তিত্বটুকু হারালাম।

আমাদের এখানে বড় দোতলা টিনের ঘর ছিল, সব হারিয়ে গেছে। বাঁচার মতো অবলম্বনই আর রইলো না।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফ হোসেন বলেন, বর্তমানে ভাঙন রোধে আমরা অস্থায়ী ভাবে কাজ করবো। তবে খুব শীগ্রই স্থায়ী ভাবে কাজ শুরু করা হবে।

পটুয়াখালীতে মোট এক হাজার ৩০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ২২ কিলোমিটার, ছয় কিলোমিটার বেড়িবাঁধ পুরো ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *