আলোকিত বাউফল

বাউফলের কৃতি সন্তান রাজিবের মতো আমরা কি হতে পারিনা?

গাজী রাজিব রহমানঃ

আমার প্রচুর টাকা থাকলে আমি গরীব, দুঃখী মানুষের জন্য অনেক কিছু করতাম।

মানুষের দুঃখ -কষ্ট একদমই সহ্য করতে পারিনা।বাহির থেকে আমাকে কেমন দেখায় আমি জানিনা,তবে ভেতরটা খুব নরম।

কথা গুলো আত্নপ্রশংসা হয়ে যাচ্ছে তবে পুরোটাই সত্যি।

ছোট্ট একটা গল্প শেয়ার করি।

তখন ছিল ২০১১ সাল, আমি নটর ডেম কলেজ এ ভর্তি হই,থাকতাম যাত্রাবাড়ী মেসে। বাবা প্রতিমাসে ৫০০০ করে টাকা পাঠাত তা দিয়েই পুরোমাস চলতে হত।হিসেব করে টাকা খরচ করতে হত।প্রতিদিন ৮ নাম্বার বাসে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা থেকে মতিঝিল জেতাম,কলেজের উদ্দেশ্যে।বাসে ভাড়া দিতাম 3 টাকা করে আসা-যাওয়ার জন্য মোট ৬ টাকা।বাস থেকে নেমে কলেজের ক্যান্টিনে দুটি ছমুছা দিয়ে সকালের নাস্তা সারতাম। তাই প্রতিদিন ১৫ টাকা নিয়ে বের হলেই হয়ে যেত। একদিন সকাল বেলা প্রতিদিনের ন্যায় ১৫ টাকা নিয়ে বের হলাম,শহীদ ফারুক রোডে পা রাখতেই দেখি একজন বৃদ্ধ মহিলা ডাস্টবিন থেকে ফেলে দেওয়া উচ্ছিষ্ট খাবার খাচ্ছে।ব্যাপারটা আমাকে নাড়া দিল,আমি কিছুক্ষন তাকিয়ে দেখে আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না। ১৫ টাকা দিয়ে তিনটা সিঙ্গারা কিনে ওনাকে দিলাম।কি যে খুশি হয়েছিল বৃদ্ধ মহিলাটি এখনো তার হাসিটা মনে পরে।

আর অইদিন আমি যাত্রাবাড়ী থেকে হেটেই নটর ডেম কলেজে গেলাম,কারন হাতে একটি টাকাও অবশিষ্ট ছিলনা,আর সকালের নাস্তা তো ওনার হাসিটুকুর মধ্যেই খুজে পেয়েছিলাম।পরে রাহাতের কাছ থেকে 5 টাকা ধার করে বাসায় আসছিলাম।

সেই দিনটা আমি কখনোই ভুলবো না,খুব ভাল লাগে মনে উঠলে।আবার খারাপও লাগে এই ভেবে চারপাশে এত মানুষ থাকলেও কেউ কেনো এগিয়ে আসলোনা? তখন ভেবেছিলাম আমি হয়তো গ্রামের ছেলে তাই এসব নিতে পারিনা,এই নিষ্ঠুর শহরে থাকতে থাকতে হয়তো এসব মানিয়ে নিতে পারবো।তবে সত্যি বলতে এখনো মানিয়ে নিতে পারিনি।

ফেসবুক থেকে/ বাউফলের সূর্য সন্তান, ঢাবির মেধাবী ছাত্র/ছাত্রলীগ নেতা বিজয় ৭১ হল শাখা/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *