আমাদের বাউফল

বাউফলে মান্তা পল্লীতে ঈদের আনন্দ

“মান্তা পল্লীতে ঈদের আনন্দ”
এম.এ হান্নান,বাউফলঃ
নদীর জলে নৌকা। সেই নৌকায় তাদের জন্ম , সেই নৌকায় তাদের মৃত্যু। নৌকা যেনো তাদের জীবন মরণের সঙ্গী।
সামাজে এদের পরিচয় এরা ঠিকানা বিহীন মান্তা পরিবার। শিক্ষা, চিকিৎসা বাসস্থান সহ সকল ধরনের সুবিধাবঞ্চিত এই মান্তা পরিবার। মান্তারা মুলত: মৎসজীবি। নদীর মাছ তাদের জিবিকা নির্বাহ করে। সূর্য্য উদয়ের সাথে সাথে জিবন যুদ্ধে নদীর ঢেউএর তালে তালে একে বেকে পথ চলে, সন্ধ্যায় তাদের পল্লীতে ফিরে মাছ বিক্রির মধ্যদিয়ে জীবন যুদ্ধের সমাপ্তি করে সেদিনের মত, পরের দিন সূর্য্য উদয়ের সাথে আবার আগের দিনের মত শুরু করে জীবন যুদ্ধ। কোন দিন মুখে হাসি ফুটে আবার কোন দিন হতাশা কিন্তু এভাবেই চলে তাদের জীবন বছরের পর বছর।
বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের শেষ প্রান্তে বগী-কালাইয়া খালে এই মান্তা পরিবাবের পল্লী। এই মান্তা পল্লীতে ঈদ-কোরবানী আসে না, তাদের জীবন চলে তাদের নিয়মে যেভাবে চলে আসছিলো।
দুই দিন পর কোরবানীর ঈদ,এবার কোরবানীর ঈদে হয়তো সামন্য হলেও হাসি ফুটবে তাদের মুখে। কেনোই বা ফুটবে না ! সরকারের সাধারন ত্রান তহবিল থেকে বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিজুস চন্দ্র দে ঈদের উপহার সামগ্রী নিয়ে তাদের (মান্তা পরিবার) মাঝে স্বশরীরে উপস্থিত।
তাদের ৪৫টি পরিবারে হাতে তুলে দেন ৫কেজি চাল, ১কেজি মুসড়ী ডাল,১কেজি সোয়াবিন, ১কেজি চিনি, ১কেজি চিড়া, ১কেজি মুড়ি সহ অন্যান্য উপহার সামগ্রী।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, বাউফল উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ ও ইউপি সদস্য মো: নুরুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
মান্তা পল্লীর সালেহা, সফুরা ও রহিম জানায়, ‘স্যার আমাগো খোজ খবর নিছে , হে আমাগোরে চাউল, ডাইল আরো অনেক কিছু দিছে। হ্যারে আল্লায় বাঁচাইয়া রাহুক।’
ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে জানান, সাবেক ইউএনও আবদুল্লাহ নআল মাহমুদ জামান স্যার এই মান্তা পরিবাবের খোজ খবর নিতেন। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান ইউএনও পিজুস চন্দ্র দে স্যার তাদের খোজ খবর নিতে এই অবহেলিত মান্তা পরিবারের মাঝে সরকারের ত্রান সামগ্রী নিয়ে ছুটে এসেছেন । তার প্রতি কৃতজ্ঞা প্রকাশ করছি।
বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিজুস চন্দ্র দে এ প্রতিবেদকে বলেন, মান্তারা ঠিকানা বিহীন , নদীর জলে ভেসে ভেসে মানবতার জীবন যাপন করে। মানবতার দিক থেকে সামাজের স্বচ্চল সম্পদশালী ব্যক্তিরা যদি তাদের পাশে এগিয়ে আসে তাহলে তাদের জীবন মানের পরির্বতন হবে।

সম্পাদনায়ঃরুশমি আক্তার তাহিরা।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *