আমাদের বাউফলনওমালা

নুরাইনপুরে ধব ধবে সাদা বকের মেলায় মুগ্ধ গ্রামবাসী

বাউফল প্রতিদিন ডেস্কঃ

সবুজের মাঝে সাদার মিশ্রন। পাটনি বাড়ির সবুজ প্রকৃতিকে সাজিয়েছে বক পাখি। ধব ধবে সাদা। এমন সাদা রূপের বাহার শুধু বক পাখির। দুধ-সাদা, কাশফুল, শরতের মেঘের মত কিংবা শিমুল তুলা রঙা সাদা বক। অহরহ এই রঙের বক ছড়িয়ে ছিটিয়ে দুই চারটি বিভিন্ন স্থানে দেখা মিললেও এই রঙের হাজারো বক একত্রিত হয়ে একটি বাড়িকে আপন করে নেয়ার ঘটনা খুব একটা বেশী দেখা যায় না। বাড়িটি এক সময় হেমন্ত পাটনি বাড়ি নামে পরিচিত ছিল কিন্তু বকের আশ্রমের কারনে তা পাল্টে গেছে। যুগ যুগ ধরে এই বাড়ির গাছে বক এসে বসবাসের কারণে ‘বকের বাড়ি’ পরিচয়ে পরিচিত এখন সবার কাছে।

হাজারো এই বকের মেলা পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নুরাইনপুর গ্রামের পাটনি বাড়িতে। উপজেলা সদর থেকে ৭ কিলোমিটার উত্তরে নুরাইনপুর বাজার থেকে অদুরে এই বকের বাড়ির অবস্থান। দীর্ঘ প্রায় ত্রিশ বছরের অধিক সময় ধরে ওই বাড়িতে ঠাঁই করে নিয়েছে হাজার হাজার বক। পাটনি বাড়ির আম,মান্দার,সুপারি,মেহগনিসহ ১৫টি গাছে বক বাসা বেঁধেছে। সকালে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে একযোগে সাদার মিছিলে মাঠে ছড়িয়ে পড়ে এরা। সূর্য অস্তমিত হওয়ার পূর্বক্ষণে পাটনি বাড়ির গাছগুলোতে ওরা ফিরে আসে। এই বক দেখতে আশপাশের এলাকা থেকে প্রতিদিন অনেকে আসছে। ওই বাড়ির বিজয় পাটনি জানান, ৬ প্রজাতির বক আছে এখানে।

এর সংখ্যায় বেশি বড় বক ও ময়ূরপঙ্খি বক। এসব প্রজাতির বকগুলো প্রত্যেকে ভিন্ন ভিন্ন মগডাল দখল করে বাসা বানিয়ে ডিম পাড়ে। ডালপালা দিয়ে বাসা বাধে ওরা। একটি বক ৩ থেকে ৭টি ডিম দেয়। ২৮থেকে ৩২দিনে বাচ্চা ফোটে। ২মাস বয়স পেরোলে আকাশে উড়তে শুরু করে বকের ছানা। বকের এই আবাসে থাকে বছরের প্রায় ৯মাস। চৈত্র মাসে নদীনালা,খালবিলে পানি এলে ওরা চলে আসে ওই বাড়িতে। প্রায় অগ্রহায়ণ মাস পর্যন্ত থেকে পানি শুকালে অন্যত্র চলে যায়। এর মধ্যে বর্ষা প্রজনন মৌসুমে হাজারো বক ছানা জন্ম নেয়।

স্থানীয়রা জানায়,সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বকগুলো এখন ছড়িয়ে পড়েছে পাশের মসজিদ মৌলভী ও হাবিব কাজীর বাড়ির গাছগুলোতে। ব্যবসায়ী ফুয়াদ বিশ্বাস বলেন,ছোটবেলা থেকে আমরা দেখে আসছি বকগুলো ফাল্গুন-চৈত্র মাসে আসে। আবার অগ্রাহায়ণ মাসের শেষের দিকে চলে যায়। বক দেখার লোভে অনেকে ছুটে আসে পাশের নুরাইনপুর লঞ্চঘাটে কিংবা বাজারে। নওমালা ইউনিয়ন থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে আসা একজন লঞ্চ যাত্রী বলেন, নুরইনপুর ঘাটে প্রায় এক থেকে দেড় ঘন্টা আগে এসেছি শুধু মাত্র বক দেখতে। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন প্রজাতির হাজার হাজার বক আমি আর কোথাও দেখিনি।’ এমন অনেকেই হয়তো এই ব্যক্তির মত বকগুলোর কারণেই এই পথে ঢাকায় যাতায়াত করেন বকগুলো দেখতে খুবভালো লাগে। বক বাড়ির সদস্য বিজয় পাটনি বলেন, বকগুলোকে কেউ আঘাত করেনা,কেউ তারাও করেনা। একারণে সময় হলে এরা আসে আবার চারদিকের পানি শুকিয়ে গেলে চলে যায়। অনেক সময় বকছানা মাটিতে পড়ে গেলে গাছে উঠিয়ে দেওয়া হয়। ওদের প্রতি এলাকার সবার মায়া আছে।

দীর্ঘ বছর একই স্থানে প্রজননসহ কলনী গড়ে তোলা সম্পর্কে পাখি বিশেষজ্ঞ ও পটুয়াখালী সরকারি কলেজের অবসর প্রাপ্ত প্রাণী বিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পিযুষ কান্তি হরি বলেন, ‘এরা সাধারণত জলাশয়ের কাছাকাছি পছন্দের এলাকায় বড় গাছের ডালে কলনী গড়ে তোলে। মানুষের আক্রমন না হলে কমপক্ষে একটানা ২৫ থেকে ৩০ বছর একইস্থানে কলনী কিংবা বসতি গড়ে তোলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *