আমাদের বাউফলসূর্যমনি

সূর্যমনিতে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে গলায় ওড়না পেচিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা

বাউফলে যৌতুকের জন্য মনি আক্তার (২৫) নামে এক প্রবাসী গৃহবোধূকে অমানবিক র্নিযাতন করে গলায় ওড়না পেচিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নের নুরাইনপুর গ্রামে এ ঘটানাটি ঘটেছে।

খবর পেয়ে থানা পুলিশ উদ্ধার করে বাউফল হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। গৃহবোধূ মনি আক্তার অভিযোগ করে বলেন,তার বাড়ি মাগুরা জেলার সদরের রামচন্দ্রপুর গ্রামে। বাবার নাম আমজেদ আলী মোল্লা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মরিশাস থাকতেন।

সেখানে একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকুরীকালীন সময় বাংলাদেশী যুকব সাইফুল ইসলাম খানের সাথে ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর তার বিয়ে হয়। সাইফুলের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নের নুরাইনপুর গ্রামে।

তার বাবার নাম শাহজাহান খান। মরিশাসে সাইফুল একটি ডেকোরেটরের দোকানে চাকুরী করতেন।
বিয়ের কিছুদিন পরে সাইফুলের চাকুরী চলে যায়। তার টাকায় সংসার চলতো। এ ছাড়া তিনি বিধবা মা শাহনাজ বেগম ও ছোট দুই ভাই মাসুম ও রাকিবের জন্য গ্রামের বাড়িতে সংসার খরচের টাকা পাঠাতেন। এক পর্যায়ে সাইফুল গ্রামের বাড়িতে ঘর উঠানোর কথা বলে তার কাছ থেকে ৩
লাখ টাকা নিয়ে দেশে চলে আসেন।

এরপর থেকে সাইফুল তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। নিরুপায় হয়ে মনি আক্তার ২০১৭ সালের ৭ মার্চ বাংদেশে চলে আসেন এবং স্বামীর বাড়িতে গিয়ে ওঠেন। দেশে আসার সময় তিনি ৭০ হাজার টাকা ও ১৬ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে আসেন। প্রায় ৫ মাস ওই বাড়িতে থাকেন। এক পর্যায়ে সাইফুল তার কাছে ২ লাখ টাকা দাবী করেন। মনি আক্তার রাজি না হওয়ায় জোরপূর্বক ৫০ হাজার টাকা ও ৪ ভরি
স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে সালিস বৈঠকে বিষয়টি নিস্পত্তি হলে তারা সিদ্ধান্ত নেন দুজনই ঢাকা চলে যাবেন। সে অনুযায়ী ২০১৭ সারে সেপ্টেম্বর মাসে তারা ঢাকার সাভারে চলে যান। মনি আক্তার সেখানে গার্মেন্টেসে চাকুরী নেন। আর সাইফুল রাজমিস্ত্রির কাজ নেয়। তিনি বাড়িতে শাশুড়ি ও দুই দেবরের জন্য প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা পাঠাতেন।

কিছুদিন পরে ঢাকায় সাইফুল ২৫ দিন নিখোঁজ হয়ে থাকলে মনি ওই সময় সাভার থানায় একটি সাধারণ ডায়রী করেন। পরে পুলিশ সাইফুলকে বেড় করে দেন। সাইফুল মনিকে নিয়ে চলে আসেন বাড়িতে। আর যৌতুকের দাবিতে স্বামী, শাশুরী ও দেবরের অত্যাচার নির্যাতন শুরু হয়।

মাঝে মধ্যে মারধরসহ খেতে না দেয়ার মত অমানবিক জীবন কাটাতে হতো মনিকে। বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক দেওয়ার অক্ষমতার কথা ভেবে মনি আক্তার দিনের পর দিন অনেকটা নিরবেই অত্যাচার নির্যাতনস য়ে যায়।

সর্বশেষে মঙ্গলবার বায়না ধরে তাকে অটো রিকশা কেনার জন্য মনির বাবার বাড়ি থেকে ২ লাখ টাকা দিতে হবে। এতে অস্বীকার করলে নির্যাতনের খরগ নেমে আসে মনির ওপর। অত্যাচারী আর মানবতা বির্বজিত স্বামী সাইফুল মনিকে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে মেরে ফেলার জন্য গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ধরে। ডাকচিৎকারে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেয় বাউফল থানা পুলিশ মনিকে উদ্ধার করে বাউফল হাসপাতালে ভর্তি করে।

বাউফল থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তাকে আগে সুস্থ্য হওয়ার পরামর্শ দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *