আমাদের বাউফলস্বাস্থ্য

বাউফলে মাঠ কর্মীর বসত ঘরে প্রসূতি ডেলিভারির কক্ষ! শিশুর মৃত্যু

কৃষ্ণ কর্মকারঃ

একজন প্রসূতি নারী সুস্থ্য ভাবে সন্তান প্রসব করবে এর জন্য সার্বিক তদারকির জন্য সরকার পরিবারপরিকল্পনা বিভাগ থেকে মাঠ পর্যায়ের কমী নিয়োগ দেন। নিয়ম রয়েছে দি কোন প্রসূতি অসুস্থ হয়ে পরেন তাহলে ওই মাঠকর্মী প্রসূতি নারীকে সরাসরি উপজেলা স্বাস্খ্যকমপ্লেক্সে এসে চিকিৎসকের সেবা নেওয়ার জন্য পরামর্শ দিবেন।

কিন্তু পরিবার পরিকল্পনাবিভাগের এক কর্মী অসুস্থ্য এক প্রসূতি নারীকে হাসপাতালে না পাঠিয়ে তার নিজ বসত ঘরে রেখে দিয়ে টাকার বিনিময় ডেলিভারির চুক্তি করেন। এক পর্যায়ে প্রসূতির অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানতে পারেন প্রসূতি নারীর পেটের বাচ্চা মারা গেছে। গত রবিবার এমনই ঘটনা ঘটেছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায়।

উপজেলায় কর্মরত পরিবারপরিকল্পনা বিভাগের মাঠকর্মীর নাম নাফিজা বেগম কাকলি। স্বজনের অভিযোগ নাফিজার উদাশিনতার কারনেই তাদের শিশুটির এমন করুন মৃত্যু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার মৈশাদি গ্রামের প্রসূতি নারী মাহমুদা বেগম (৩৩) প্রসবকালীন ব্যাথা উঠলে পরিবারের পক্ষ থেকে বাউফল সদর ইউনিয়নের গোসিংগা গ্রামের পরিবারপরিকল্পনা বিভাগের মাঠকর্মী (এফডব্লুএ) নাফিজা বেগম কাকলীর সাথে যোগাযোগ করা হয়।

গত শনিবার বিকাল ৪টার সময় প্রসূতিকে নিয়ে তার বোন জেসমিন আক্তার ও চাচী মনোয়ারা বেগম নাফিজা বেগমের পৌর শহরের গুলশানপাড়াস্থ বাসায় আসেন। তিনি ওই সময় প্রসূতি নারীর পেটে হাত দিয়ে বলেন, কোন সমস্যা নেই, বাচ্চা নড়াচড়া করছে। নরমাল ডেলিভারী হবে। এরপড় নাফিজা প্রসূতির পরিবারের সাথে সাতহাজার টাকার চুক্তিবদ্ধ করেন। প্রসূতি নারীকে আল্টসনোগ্রাম করার জন্য বাসার কাছেই নিরাময় ক্লিনিকে পাঠিয়ে দেন।

সেখানে ডা. আফজাল হোসেন জুয়েল নামের এক চিকিৎসক ওই নারীর আল্টাসনোগ্রাম করেন এবং বাচ্চার পজেশন ভাল সুস্থ্য আছে বলে জানিয়ে দেন। এরপর আল্টাসনোগ্রাম রিপোর্টসহ তারা নাফিজার বাসায় যান।

এরপর নাফিজা প্রসূতি ওই নারীকে তার নিজ ঘরের নিচতলার একটি কক্ষে নিয়ে শুয়ে দিয়ে দুই রানে দুইটি ইনজেকশন পুশ করে বাম হাতে কেনুলা পরিয়ে দেন। ভোর রাত ৪টার দিকে ওই নারী অসুস্থ হয়ে পড়লে নাফিজা বলেন, অস্থির হওয়ার কিছুই নেই।

পেটের মধ্যে বাচ্চা ভালই আছে। নরমাল ডেলিভারী হবে। রবিবার সকাল ৯টার পির্যন্ত নরমাল ডেলিভারী হচ্ছেনা দেখে তার শরীরের একটি স্যালাইন পুশ করে। এর অল্প সময় পরেই ওই প্রসূতি নারী অসুস্থ হয়ে পড়লে মাঠকর্মী নাফিজা বেগম তাকে (প্রসূতিকে) বাসা থেকে হাসপাতালের সামনে সেবা ক্লিনিকে পাঠিয়ে দেন। সেখানে পুনরায় তার অল্টাসনোগ্রাম করানো হয়। অল্টাসনাগ্রামের রিপোর্ট দেখে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক আহমেদ কামাল ওই নারীর স্বজনদের জানান, পেটের মধ্যে নবজাতক মারা গেছে। এখন সিজার না করলে মাকে বাঁচানো যাবেনা। সকাল ১০টায় তার পেট থেকে মৃত একটি ছেলে বেড় করা হয়।

এ ব্যাপারে বক্তব্য নিতে মাঠকর্মী নাফিজা বেগম কাকলীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

সেবা ক্লিনিকের চিকিৎসক ডা.আহম্মেদ কামালের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, গতকাল রবিবার সকাল ৮টার সময় নাফিজা বেগম আমাকে ফোন দিয়ে বলেন একটি রোগী আছে জরুরী সিজার করতে হবে। সকাল ১০টার দিকে আমি ক্লিনিকে এসে দেখি ওই রোগীকে ওটিতে নেওয়া হয়েছে। আমি আল্টাসনোগ্রাম না করে ওই রোগীর সিজার করতে অসম্মতি জানাই। একপর্যায়ে আল্টাসনোগ্রাম করি। দেখি পেটের মধ্যে বাচ্চা মৃত। পরে রোগীর সাথে আশা স্বজনদের সম্মতিতে সিজার করে পেট থেকে মৃত বাচ্চা বেড় করি।

প্রসূতি নারীর বোন জেসমিন আক্তার বলেন, তার ভগ্নিপতি রাজধানীতে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। তার বোনের তিন মেয়ের পর ছেলে হয়েছিল। কিন্তু একটা মানুষের ভ’লে তা আজ সব শেষে হয়ে গেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *