আমাদের বাউফলধূলিয়া

তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে বিলীন ঘরবাড়ি-সড়ক

বাউফল প্রতিদিন:

তেঁতুলিয়া নদীর সবর্গ্রাসী ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে উপজেলার ধূলিয়া ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ। ভাঙনে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ধূলিয়া ইউনিয়নের ধূলিয়া পুরান বাজার, নতুন বাজার, বারদিপাড়া, উত্তর ঘুচরাকাঠি ও মঠবাড়িয়া অংশ। ইতিমধ্যে নদীগভের্ বিলীন হয়ে গেছে শতাধিক ঘর বাড়ি। ধূলিয়া-হোসনাবাদ সড়কটির একাংশ নদীগভের্ বিলীন হয়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ধূলিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়াডের্র কয়েক হাজার মানুষ।

তেঁতুলিয়ার এই অব্যাহত ভাঙনে হুমকির মুখে রয়েছে ধূলিয়া দাখিল মাদরাসা, ধূলিয়া এন কে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মঠবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি ধমীর্য় উপাসনালয়। এ ছাড়াও হুমকির মুখে রয়েছে ভাষা সৈনিক সৈয়দ আশরাফের সমাধিস্থল।

‘আর কিছু নাই যে ভাঙবে যা আছিল সব লইয়্যা গেছে তেতুইলায় (তেঁতুলিয়ায়)। চাইবার ঘর ভাঙছে, জমি ক্ষেত, হালের বলদ সব শ্যাস এহন আর কিছুই নাই। রাস্তার পাশে ঝুপড়ি বানাইয়া পোলাপান লইয়া কোনোমতে আছি। এই রাস্তাও মনে হয় টেকবে না। এরপর কই যামু আমরা? আমনেরা সরকার’রে কন, এমপিরে কন আমাগো লইগ্যা কিছু করতে। এভাবেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথা বলছিলেন তেঁতুলিয়ার ভাঙনে গৃহহীন জালাল মিয়া (৪৫)। শুধু জালাল মিয়াই নয়, এমনই আতর্নাদ পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার তেঁতুলিয়া পাড়ের সাধারণ মানুষের।

ধূলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রব বলেন, এই ভাঙন এভাবে অব্যাহত থাকলে অচিরেই ধূলিয়া বাজার নদীগভের্ বিলীন হয়ে যাবে। ইতিমধ্যে কয়েক হাজার হেক্টর ফসলি জমি ৩টি মসজিদ নদীগভের্ বিলীন হয়ে গেছে। প্রতিদিনই গৃহহীন হচ্ছে এখানকার মানুষ। অচিরেই এই ভাঙন রোধে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবী জানান তিনি।

তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনরোধে করণীয় সম্পকের্ বাউফল উপজেলা নিবার্হী কমর্কতার্ পিজুস চন্দ্র দে বলেন, ঘটনাস্থল পরিদশর্ন করেছি। তাৎক্ষণিকভাবে এই ভাঙন রোধে দুই কিলোমিটার এলাকায় বøক ফেলা গেলে সুফল পাওয়া যেত। বিষয়টি আমরা সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেছি।

কিন্তু এই ভাঙন রোধে দ্রুত কোনো পদক্ষেপ বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেননি পানি উন্নয়ন বোডের্র পটুয়াখালী জেলা নিবার্হী প্রকৌশলী হাসানুজ্জামান। তিনি জানান, ধূলিয়ায় ভাঙন রোধে আমাদের একটি প্রস্তাবনা দেয়া আছে। এই প্রকল্প অনুমোদন হলে এর কাজ শুরু করা যাবে। দীঘির্দন ধরেই এই প্রকল্পের কথা শোনা যাচ্ছে কিন্তু এর বাস্তবায়ন হচ্ছে না কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, সমীক্ষাসহ আরও কিছু কাজ রয়েছে, এরপর প্রস্তাবনা যাবে মন্ত্রণালয়ে সেখান থেকে একনেকে। একনেকে পাস হবার পর এরপরে কাজ শুরু করা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *