আমাদের বাউফলবাউফল

হাত বাড়ালেই মিলছে বাউফলের মাদক

বিপি ডেস্ক:

পটুয়াখালীর বাউফলে হাত বাড়ালেই মিলছে নানা প্রকার মাদকদ্রব্য। এক সময়ের শিক্ষিত বাউফল এখন মাদকের জনপদে পরিনত হয়েছে। নামিদামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে মেধা প্রতিযোগিতার পরিবর্তে মাদকের প্রতিযোগিতা চলে।

বিভিন্ন নামের মরণবেঁধি মাদকের মধ্যে রয়েছে,ফেনসিডিল,গাাঁজা ইয়াবা ও ঝাঁকানি। ওই সমস্ত মাদক সেবন করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় অভিভাবকরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাগেছে, বর্তমানে উপজেলার অসংখ্য পয়েন্টে বিক্রি হচ্ছে মরণ নেশা ইয়াবা ও গাঁজাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য। অনুসন্ধানে মিলেছে, বাউফল উপজেলার কালাইয়া লঞ্চঘাট,ডালিমা ব্রিজ,নাজিরপুর বাংলাবাজার,নাজিরপুর ছোট ডালিমা মাধ্যমিক বিদ্যালয় সড়ক,ধানদী বাজার সংলগ্ন ইটের বাটায়, রায় তাঁতেরকাঠী রাস্তার মাথা(অটো ষ্টান্),বাউফল পৌর শহরে কাগজিরপুল বাসষ্টান,বাউফল হাইস্কুল অডিটিয়াম, হাসপাতালের পুকুর পাড়,গোলাবাড়ি ব্রিজ,নুরাইনপুর লঞ্চঘাট,কালাইয়া দশমিনা টিম্পুষ্ট্যান, ল্যাংড়া মুন্সির পুল,বগিবাজার,কালিশুরি ব্রীজ,বগা ফেরিঘাট ও লঞ্চঘাট,বাহেরচর বাজার ব্রীজসহ বিভিন্ন পয়েন্টে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য।

সম্প্রতিক সময় ফেনসিডিল ও ইয়াবার দাম বেড়ে যাওয়ায় গাঁজার প্রতি ঝুঁকে পড়েছে মাদক সেবীরা। একপিছ ইয়াবা দেড় থেকে ৩শ’ টাকা,ফেনসিডিল ৩শ’থেকে ৫শ টাকা। এক পুরিয়া গাঁজার দাম ৫০ টাকা। সিগারেটের মধ্যে গাজার পুরিয়া ভরে দেদারসে তরুণদের টানতে দেখা যায়। বর্তমানে গাঁজা টানা তরুণদের এক ধরণের ফ্যাশন। ফলে দিন দিন গাঁজা সেবিদের সংখ্যা বেড়েই চলছে।  বাউফলে কয়েকটি রুটদিয়ে প্রতিনিয়ত মাদকের চালান আসে।

বিশেষ করে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান চট্রগ্রাম আসে, সেখান থেকে লক্ষিপুর হয়ে ভোলা আসে, ভোলা থেকে নৌপথে বাউফলের ব্যবসা কেন্দ্র কালাইয়া বন্দরে আসে। ঢাকা থেকে সরাসরি নৌপথে কালিশুরি বাজারে আসে, বেনাপল থেকে গাঁজার চালান সড়ক পথে বগা বাজারে আসে।

উল্লেখিত বাজার থেকে মোটরসাইকেল যোগে বাউফলের বিভিন্ন স্পটে সরবরাহ করা হয়। বিশেষ করে বাউফল পৌর শহর এখন মাদক শহরে পরিনত হয়েছে। মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে তরুণ সমাজ ,বিশেষ করে উঠতি বয়সি ছেলেরা, শুধু ছেলেরাই নয় স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া মেয়েরাও এ নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে।সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে মাদক ব্যাবসায়ীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি করছেন অভিবাবকরা।

 

বগা ইউনিয়নের বাসিন্দা রমজান হাওলাদার জানান, আমাদের বাচ্চা কাচ্ছা  নিয়ে  ভয়ে আছি।  বন্ধু বান্ধবের সাথে  চলে, না জানি কখন মাদকের পাল্লায় পরে। আমরা মাদক মুক্ত বাউফল চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *