আমাদের বাউফলরাজনীতি

বাউফলে প্রার্থী নিয়ে টানাপোড়েন বিএনপি ও জামায়াতে

পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন চেয়ে আবেদন করেছেন ছয়জন। তাঁদের মধ্যে সাবেক সাংসদ শহিদুল আলম তালুকদারের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। বিএনপির নেতা-কর্মীদের সূত্রে এ কথা জানা গেছে।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০–দলীয় জোটের শরিক দল জামায়াতে ইসলামীও এ আসনটি চায়। তাদের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ। দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকেরা তাঁদের প্রার্থীকে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে দাবি করছেন এবং প্রচারণা চালাচ্ছেন।

এ আসনে শহিদুল আলম ছাড়াও বিএনপি থেকে মনোনয়ন চেয়েছেন দলের নির্বাহী কমিটির সহদপ্তর সম্পাদক মু. মুনির হোসেন, জিয়া গবেষণা পরিষদের সভাপতি আনিচুর রহমান আনিচ, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মো. মনিরুল ইসলাম, বাউফল পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ন কবির, বাউফল উপজেলা বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. রেজাউল করিম বাদশা। এর আগে শহিদুল আলম ছাড়া বিএনপির কোনো নেতা এ আসনে সুবিধা করতে পারেননি। শহিদুল বর্তমান আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ ও চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজের বড় ভাই এ বি এম রেজা মোল্লাকে হারিয়ে দুবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে ২০০১ সালে সাংসদ নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে বিএনপির মনোনয়ন পেলেও মামলাসংক্রান্ত জটিলতার কারণে অংশ নিতে পারেননি। মনোনয়ন পান শিল্পপতি এ কে এম ফারুক আহম্মেদ তালুকদার। তিনি ৪০ হাজার ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে হেরে যান। এরপর উপজেলা বিএনপির নেতৃত্ব চলে যায় ফারুকের কাছে। শহিদুলের অনুসারীদের বাদ দিয়ে কমিটি করা হয়। ফারুক আহম্মেদ সভাপতি হন। আর তিনি (ফারুক) ঢাকায় থেকেই বাউফলের রাজনীতি পরিচালনা করেন।

গত ২৫ অক্টোবর শহিদুলকে দলের মহাসচিব ঢাকার গুলশান কার্যালয়ে ডেকে সভা করেন। এরপর ফারুক আহম্মেদ এলাকার রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়েন। তিনি এবার দলীয় মনোনয়ন ফরমই সংগ্রহ করেননি।

শহিদুল আলম বলেন, তিনি পটুয়াখালী-২ আসনকে বিএনপির ঘাঁটিতে পরিণত করেছেন। কেন্দ্র থেকে তাঁকে কাজ করতে বলা হয়েছে এবং সেই নির্দেশ অনুযায়ী তিনি কাজ করছেন। ধানের শীষের জয় সুনিশ্চিত। এবার মামলাসংক্রান্ত কোনো জটিলতা নেই।

আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী মুনির হোসেন বলেন, সরকারের জুলুম–অত্যাচারের মধ্যেও রাজপথে ছিলেন। আশা করছেন ধানের শীষের প্রতীক তিনি পাবেন। তবে দল যাঁকে মনোনয়ন দেবে তাঁর পক্ষে কাজ করবেন।

উপজেলা বিএনপির সাবেক শিক্ষা ও ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ভোটের রাজনীতিতে এ আসনে বিএনপির অবস্থান অনেকটা ব্যক্তিকেন্দ্রিক। বিএনপির একমাত্র ভরসা শহিদুল আলম তালুকদার। তিনি ব্যতীত এ আসন উদ্ধার করা অসম্ভব। আর তিনিই বিএনপির মনোনয়ন পাবেন।

তবে অনেক আগে থেকেই জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ প্রচারণা চালাচ্ছেন। জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় শফিকুল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। তবে তাঁর নেতা-কর্মীরা ধানের শীষ প্রতীকে শফিকুলের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

উপজেলা জামায়াতের আমির মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, শফিকুল ইসলাম এখন ঢাকায় আছেন। এবারও মামলা জটিলতায় আছেন শহিদুল আলম তালুকদার। তা ছাড়া তিনি দীর্ঘদিন রাজনীতির বাইরে ছিলেন। জামায়াত যে কয়টি আসন জোটের কাছে চেয়েছে, তার মধ্যে এ আসনটি অন্যতম।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত ১০ বছরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এ উপজেলার জামায়াতের নেতা-কর্মীরা। তাঁরা অসংখ্য মামলার শিকার হয়েছেন। সব দিক বিবেচনায় ধানের শিষ প্রতীক শফিকুল পাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *