আমাদের বাউফলস্বাস্থ্য

বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ বিতরণ

মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ হাতে শিশুটির বাবা শফিকুল ইসলাম।

বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ফার্মাসিস্ট খাদিজা বেগমের বিরুদ্ধে।

২০ মার্চ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। এতে স্থানীয় ও সেবা নিতে আসা রোগীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানা গেছে, আটমাস বয়সী শিশু আবু তালহা তিনদিন ধরে ঠান্ডা, জ্বর ও কাশিতে ভুগতেছিলো। সোমবার সকালে বমি শুরু হলে শিশুটির বাবা শফিকুল ইসলাম ও মা নুসরাত জাহান চিকিৎসার জন্য তাকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।

পরে টিকেট কেটে চিকিৎসক আখতারুজ্জামানকে দেখান তারা। চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্রে তিনটি ঔষধের নাম লিখে দেন। ওষুধ বিতরণ কেন্দ্রে গেলে সেখানে দায়িত্বে থাকা ফার্মাসিস্ট খাদিজা বেগম ওষুধগুলো প্রদান করেন, যা ছিল মেয়াদোত্তীর্ণ।

শিশুটির বাবা শফিকুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলে তালহা তিনদিন ধরে অসুস্থ। সকালে তাকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। চিকিৎসক আকতারুজ্জামান তার ব্যবস্থাপত্রে প্যারাসিটেমল, সালবুটামল ও ক্লোরোফিনামিল নামে তিনটি সিরাপের নাম লিখে দেন।

ওই সিরাপ তিনটি আমাকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওষুধ বিতরণ কেন্দ্র থেকে দেয়া হয়েছে। পরে ওষুধ খাওয়ার নিয়মাবলী জানার জন্য আমি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকার একটি ওষুধের দোকানে যাই। সে সময়ে ওই দোকানি দেখেন ঔষধগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ।

প্যারাসিটেমল ও সালবুটামল সিরাপটির বোতলের গায়ে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ২০২২ সালের জানুয়ারি লেখা ছিল। আর ক্লোরোফিনামিল সিরাপের বোতলের গায়ে মেয়াদোর্ত্তীর্ণের তারিখ ২০২৩ সালে জানুয়ারি লেখা ছিল।

এদিকে মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ বিতরণের কথা স্বীকার করে ফার্মাসিস্ট খাদিজা বেগম বলেন, গত বছর ডিসেম্বর মাসে তিন বক্স ওষুধ এসেছে। যার মধ্যে এ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া গেছে। বিতরণের সময় দেখে শুনে দেয়া উচিৎ ছিল। ভুলে এমন ঘটনা ঘটেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *