আমাদের বাউফলনাজিরপুর

বাউফলে জেলেদের চাল ইউপি মেম্বারের পেটে!

বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নে মানবিক কর্মসূচির আওতায় তালিকাভুক্ত জেলেদের বরাদ্দের চেয়ে ১০ কেজি করে চাল কম দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার বিতরণের সময় এ অনিয়ম করা হয়। বিষয়টি স্বীকার করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্যানেল চেয়ারম্যান, সচিব ও সদস্যরা। তাদের দাবি, তালিকার চেয়ে জেলে বেশি থাকায় চাল কম দিয়েছেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বরাদ্দের চেয়ে কম দেওয়ার সুযোগ নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, জাটকা ধরা থেকে বিরত থাকা নাজিরপুর ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত ৬৮৩ জেলের জন্য ২৭.৩২০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রত্যেক জেলে ৪০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা। গতকাল দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের পাশে ধানদী কামিল মাদ্রাসা মাঠে চাল বিতরণ করছেন ইউপি সদস্যরা। জেলেদের নামপ্রতি ৪০ কেজি চাল বরাদ্দ থাকলেও বিতরণ করা হচ্ছে ৩০ কেজি করে। পাশেই বসে আছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার ও ইউপি সচিব। সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন ইউপি সচিব আবু বকর।

চাল নিয়ে ফেরার পথে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জেলে মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘আগে ৪০ কেজি করে চাল পেতাম। এবার দিয়েছে ৩০ কেজি। তবে বস্তা দেখে মনে হয় ৩০ কেজিরও কম।’ ইউনিয়ন পরিষদের পাশে এক দোকানে মাপ দিয়ে দেখা যায়, চাল আছে ২৩ কেজি ৯০০ গ্রাম।

৬ নম্বর ওয়ার্ডের জেলে আব্দুর রহমান, মো. শাজাহান সরদার ও ফারুক মৃধা জানান, আগে ৪০ কেজি করে চাল দেওয়া হতো। এবার ৩০ কেজি করে দেওয়া হয়েছে। ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মো. জাকির হোসেন ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের মো. ফিরোজও কম চাল পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

একটি সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসার কাজে ইউপি চেয়ারম্যান এসএম মহসিন দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে চাল বিতরণ নিয়ে তার ভাই ও ইউপি সদস্য আহসান হাবিব মিন্টু সব ইউপি সদস্যকে নিয়ে গোপনে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে জেলেদের ৪০ কেজি চালের পরিবর্তে ৩০ কেজি করে বিতরণের সিদ্ধান্ত হয়। ৬৮৩ জেলেকে ১০ কেজি করে চাল কম দিলে প্রায় সাত টন চাল অবশিষ্ট থাকে। যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা। ওই টাকা ইউপি সদস্যরা খরচ হিসেবে ভাগ করে নেবেন এমন সিদ্ধান্ত হয় বৈঠকে।

জেলেদের চাল বিতরণে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যানের ভাই ইউপি সদস্য আহসান হাবিব মিন্টু বলেন, ‘এবারের জন্য মাফ করেন। সংবাদ প্রকাশ করার দরকার নেই।’

এ বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্য মো. আলম হোসেন বলেন, ‘৬৮৩ জনের নামে বরাদ্দ পাইছি। জেলে ৭৫৩ জন। তাই সব জেলেকে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে।’ ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বরাদ্দ কম, তাই বাকি জেলেদের সঙ্গে সমন্বয় করতে চালও কম দেওয়া হয়েছে।’ একই কথা ইউপি সচিব আবু বকরের।

উপজেলা সিনিয়র সহকারী মৎস্য অফিসার মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল-আমিন বলেন, বরাদ্দের চেয়ে কম দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *