আমাদের বাউফলমদনপুরা

বাউফলে সূর্যমুখী চাষে কলেজছাত্র মেহেদি হাসানের সাফল্য

বাউফলে সূর্যমুখী চাষ করে সাফল্য হয়েছে বাউফল সরকারি কলেজের ছাত্র মেহেদি হাসান। উপজেলার মদনপুরা ইউনিয়নের দক্ষিণ চন্দ্রপাড়া নিবাসী মেহেদি হাসান গত বছর পরীক্ষামূলক ৩৩ শতাংশ জমিতে সূর্যমূখীর চাষ করেছেন। তাতে ৬ মণ বীজ উৎপাদন হয়েছে। প্রথম বছরেই উৎপাদন করে বাণিজ্যকভাবে লাভবান হয়েছেন তিনি। তার আগ্রহ বেড়ে যাওয়ায় এ বছর তিনি ১০০ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছেন। আবহাওয়া ও জমি চাষের অনুকূলে থাকায় এ বছরও ফলন বাম্পার হয়েছে।

কলেজছাত্র মেহেদী হাসান বলেন, আমি লেখাপড়ার পাশাপাশি বাবার জমিতে প্রথমে পরীক্ষামূলক ৩৩ শতাংশ জমিতে সূর্যমূখীর চাষ করি। তাতে বেশ লাভবান হয়েছি। এ বছর ১০০ শতাংশ জমিতে জমিতে সূর্যমূখীর চাষ করি। প্রতিটি গাছ লম্বা হয়েছে প্রায় ৬ ফুট। এক একটি গাছে ১৪শ থেকে ১৫শ (২৫০ গ্রাম) বীজ হবে বলে তার ধারনা। এ বছর ৩০ মণের উপরে ফলন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তার এ বাম্পার ফলন দেখে এলাকার চাষিদের মধ্যে সূর্যমুখী চাষের আগ্রহ বেড়েছে।

তার সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন দেখে এ বছর আনোয়ার মৃধা ৩৩ শতাংশ, রাসেল মৃধা ৫০ শতাংশ, কবির মৃধা ৫০ শতাংশ, সোহরাব আকন ২০ শতাংশ, রফিক ব্যাপারি ২০ শতাংশ, তার বাবা মো: মুজিবুর রহমান ৫০ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছেন।

মেহদী আরো বলেন, আমি বিএ পরীক্ষা দিয়েছি। পাশ করে এম এ পড়ব। কিন্তু আমি কোনো চাকরি করবোনা। সরকারি সহযোগিতা পেলে এ কাজে আমি আরো অগ্রসর হতে পারবো।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, দূর দূরান্ত থেকে এ সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য ছুটে আসছে লোকজন। শুক্র ও শনিবার ছুটির দিন লোকজনের ভিড় জমে যায় তার ক্ষেতের চারপাশে। প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায় সেলফি তোলার জন্য। রাস্তার কিনারে সারিবদ্ধভাবে পার্কিং করা থাকে দূর দূরান্ত থেকে আসা লোকজনের গাড়ি। দেখার জন্য কেউ কেউ ছিঁড়ে নিচ্ছে একটি দুটি সূর্যমুখী ফুল। প্রতিটি গাছ লম্বা হয়েছে প্রায় ৬ ফুট। এক একটি গাছে ১৪শ থেকে ১৫শ (২৫০ গ্রাম ) বীজ হবে। কেবল সূর্যমুখী নয় সবজি চাষ,ফলদ গাছ লাগিয়ে,ফুল ও ফলদ চারার নার্সারি করে শুধু উপজেলায় নয় জেলায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন মেহেদি হাসান।

কৃষক রাসেল মৃধা বলেন, গত বছর মেহেদি হাসানের সূর্যমুখীর বাম্পার ফলন দেখে আমি আগ্রহী হয়ে ৫০ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছি। মেহেদি হাসানের পরামর্শ নিয়ে আমি ক্ষেতের পরিচর্যা করেছি। আমার ক্ষেতেও সূর্যমুখির বাম্পার ফলন হয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, ফলদ ও সবজি চাষে কৃষকদের সহযোগিতা করার জন্য আমাদের মাঠকর্মী রয়েছে। কোন সমস্যা দেখা দিলে আমি নিজে গিয়ে পরামর্শ দিই। বিশেষ করে লেখাপড়ার পাশাপাশি ফুল, ফল, সবজির বাগান ও নার্সারিতে মেহেদি হাসানের সফলতা আমাকে বিস্মিত করেছে। তাই সময় পেলেই ছুটে যাই তার বাগান ও নার্সারি দেখতে। আমার পক্ষে যতটুকু সম্ভব তাকে সাহায্য করার চেষ্টা করি। ভবিষ্যতে এ ছেলেটি কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটাতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *