আমাদের বাউফলধূলিয়া

বাউফলে মেয়াদ শেষের ১৫মাস পরেও সেতুর খবর নেই!

বাউফল উপজেলার ধুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন খালের ওপর দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ কাজের মেয়াদ ১৫ মাস আগে শেষ হলেও দৃশ্যমান হয়ে উঠেনি সেতুটি। মাটির নিচেই পড়ে রয়েছে সেতু নির্মাণ কাজ। সেতুর পিলার নির্মাণে পার হয়ে গেছে আড়াই বছর।

দীর্ঘদিন সেতু নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ধুলিয়া, কালিশুরী, কেশবপুর ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ। বন্ধ রয়েছে যানবাহন চলাচল।

এলজিইডি সূত্র জানায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে বাউফল উপজেলার কালিশুরী ইউপি- ধুলিয়া লঞ্চঘাট বাজার ভায়া ধুলিয়া ইউপি ভবন সড়কে আরসিসি গার্ড সেতু নির্মাণে রপত্র আহ্বান করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইিড)। ১৫মিটির র্ঘ্যৈ ও ৫.৫ মিটার প্রস্থের ওই সেতুটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ১কোটি ৪৫লাখ টাকা।

পটুয়াখালীর মেসার্স কে.কে এন্টার প্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। ২০২০ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০২১ সালের ২ডিসেম্বর সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা। তবে নির্মাণ কাজের মেয়াদ পনের মাস আগে শেষ হলেও ৪০ভাগ কাজও শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার। বিভিন্ন অজুহাতে ১বছর ধরে বন্ধ রয়েছে সেতুর নির্মাণ কাজ।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মাটির নিচে সেতুর ৪টি পিলার নির্মাণ করা হয়েছে। তাও মাটির ওপরে ৃশ্যমান নয়। মাটির ওপরে পিলার, গার্ডার, ছাসহ ৬০ভাগ কাজ বাকি পড়ে রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলা শহরের সাথে ধুলিয়া ইউনিয়নের অন্যতম প্রধান সড়ক এটি। অপরদিকে ধুলিয়া- ঢাকা লঞ্চঘাটের সাথে কেশবপুর, কালিশুরী ও কাছিপাড়া ইউনিয়নের একমাত্র সড়কও এটি। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে সেতু নির্মাণ কাজ দীর্ঘদিনেও শেষ না হওয়ায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছে লঞ্চযাত্রী, শিক্ষার্থীসহ লক্ষাধিক মানুষ সেতু নির্মাণ কাজের জন্য ধুলিয়ার প্রধান খালে বাঁধ দিয়ে রাখায় ধুলিয়া উত্তরাঞ্চলে পানিপ্রবাহ বন্ধ রয়েছে। খড়া মৌসুমে কৃষকেরা সেচ সংকটে ভুগছে। আর বর্ষায় সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা।

সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করার দাবি জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মো. রাকিব হোসেন (৩০), সোহরাব (৪৫) ও মিলন গাজী (৫৫) বলেন, ১বছর ধরে কাজ বন্ধ পড়ে আছে। ঠিকাদারের লোকজনেরও দেখা মিলছে না। সামনে বর্ষা মৌসুম আসছে। এতে ভোগান্তি আরও বাড়বে।

এবিষয়ে ধুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মু. হুমায়ূন কবির দেওয়ান বলেন,‘ কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও দেড় বছর অতিক্রম হয়ে গেছে।

৪০ভাগ কাজও শেষ না করে ঠিকাদার কাজ ফেলে রেখেছেন। ঠিকাদারের খামখেয়ালি ও এলজিইডির তদারকির অভাবে ভোগান্তিার শিকার হচ্ছেন লক্ষাধিক মানুষ।

এবিষয়ে জানতে মেসার্স কে.কে এন্টার প্রাইজের স্বত্তাধিকারী মো. কবির হোসেনকে পাওয়া যায়নি। তার প্রতিনিধি মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, নির্মাণ ব্যয় বাড়ায় কাজ বন্ধ ছিল। চলতি সপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরু হবে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে অসহায়ত্ব প্রকাশ করে উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. সুলতান হোসেন বলেন, নির্মাণ সামগ্রীর দাম বৃদ্ধির অজুহাতে ঠিকাার কাজ বন্ধ করে রেখেছেন। একাধিকবার চিঠি দেওয়ার পরেও কাজ শুরু করেনি। পরিশেষে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি বাতিল করতে করে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করার জন্য হেড কোয়াটারে চিঠি পাঠিয়েছি।

জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মাদ আবদুল লতিফ হোসেন বলেন, এবিষয়ে খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *