আমাদের বাউফলধূলিয়া

বাউফলে বেদখল সরকারি জমি, বাধাগ্রস্ত উন্নয়ন

বাউফলের ধুলিয়া ইউনিয়নের ধুলিয়া বাজার এলাকায় সরকারি জমি দখল করে দোকানঘর, মাছের ঘের ও মুরগির খামার করেছেন স্থানীয় ক্ষমতাসীন ও বিরাধীদলীয় প্রভাবশালীরা।

ভূমি অফিসের অসাধু কিছু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা তুলে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবাসা-বাণিজ্য করে আসছেন তারা।

এদিকে জমির অভাবে বাজার সম্প্রসারণ প্রকল্প ও অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ আটকে পড়ে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর দেখছি-করছি বলে সময় ক্ষেপণ করছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গত ২৬ জুন ওই সরকারি জমি উদ্ধারের জন্য লাল নিশান টাঙিয়ে দেওয়া হলেও প্রশাসন নীরব থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উন্নয়ন কর্মকান্ডে জড়িত ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষ।

স্থানীয় ও ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ধুলিয়া ইউনিয়নের ঘুরচাকাঠী মৌজায় সরকারি খাস খতিয়ানের ১০/১৫৮৭ দাগে ২.৭০ একর জমি রয়েছে।

যার মধ্যে ধুলিয়া বাজার এলাকায় প্রায় ৮০ শতাংশ জমি খাস রয়েছে। এসব জমি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসিন ও বিরোধীদলীয় প্রভাবশালীরা দখল করে ব্যবসা-বাণিজ্য করে আসছে।

ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে সরকারি জমিতে পাকা দোকান ঘর, মুরগির খামার ও মাছের ঘের করেছেন ওই

প্রভাবশালীরা। সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য ধুলিয়া বাজার সম্প্রসারণের জন্য বরাদ্দ দিলেও সরকারি জমি বেদখল থাকায় বাজার উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না।

ধুলিয়া বাজারের প্রধান সড়কের পশ্চিম পাশে সরকারি জমিতে ২০ থেকে ২২টি পাকা ও আধা পাকা ঘর রয়েছে। এসব দোকানঘর অন্যজনের কাছে ভাড়াও দিয়েছেন দখলদাররা।

দোকান ঘরের পেছনের ডোবা-নালায় মুরগির খামার ও মাছের ঘের করা হয়েছে। সরকারি জমিতে এসব দোকান ঘরের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মিয়ার ৪টি, সজল ওঝার ৩টি, সুশান্ত ওঝার ২টি, ইউনিয়ন যুবদল নেতা নাসির উদ্দিনের ১টি ও মিজান হাওলাদারের দখলে ২টি ঘর রয়েছে।

বাজার উন্নয়নের স্বার্থে সরকারি ওই জমি ছেড়ে দিতে বারবার বলা হলেও দখলদাররা জমি ছাড়ছেন না। সর্বশেষ গত ২৬ জুন স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিস সীমানা নির্ধারণ করে লাল নিশান টাঙিয়ে দেয়।

কিন্তু জমি উদ্ধারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। স্থানীয়রা জানান, সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা করেছেন প্রভাবশালীরা। তারা নিয়মিত ভূমি অফিসে টাকা দিয়ে জমি দখলে রাখছেন।

এ বিষয়ে ধুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মু. হুমায়ন কবির জানান, বাজার উন্নয়নের জন্য প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সরকারি জমি বেদখল থাকায় প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি ইউএনওকে জানানো হয়েছে। তিনি ব্যবস্থা নেবেন বলছেন।

দখলদারদের কাছে ম্যানেজ হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে ধুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. সেলিম খান বলেন, প্রাথমিকভাবে খাস জমির সীমানা নির্ধারণ করে সেই জমিতে লাল নিশান টাঙিয়ে জমি দখলে নেওয়া হয়েছে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য উপজেলা প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।

বাউফল উপজেলা সহাকরী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক কুমার কুন্ডু বলেন, উন্নয়ন কর্মকান্ডের সঙ্গে আমরাও জড়িত। সরকারি জমি খালি করতে বলা হয়েছে। যদি স্বেচ্ছায় না যায়, তাহলে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।

 

প্রতিদিনের সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *