আমাদের বাউফলসারাদেশ

বাউফলে জুন মাসেই ৬০ লাখ টাকা তুলেছেন কৃষি কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দাস

বাউফলের আলোচিত কৃষি কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দাস জুন মাসে ব্যাংক থেকে কয়েক দফায় ৬০ লাখ টাকা তুলেছেন।

স্থানীয় হিসাবরক্ষণ অফিসে চাহিদাপত্র পাঠিয়ে উন্নয়ন কোড থেকে তিনি সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে ওই টাকা তুলে নিয়েছেন।

এক মাসে ৬০ লাখ টাকা উত্তোলনের ঘটনায় কৃষি কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দাসকে নিয়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা।

অভিযোগ উঠেছে, সোনালী ব্যাংক থেকে তোলা টাকা তিনি ব্যক্তিগত কিংবা স্বজনদের একাধিক ব্যাংক হিসাবে জমা রাখতে পারেন।

এদিকে, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিভ্রান্ত করে কৃষি কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দাস নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিভিন্ন প্রকল্পের নামে বরাদ্দ হওয়া দুই কোটি চার লক্ষ ১৫ হাজার ২৯০ টাকা আত্মসাত করেন কৃষি কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দাস।

কিছু প্রকল্পের নামমাত্র কাজ করে সমুদয় অর্থ তিনি আত্মসাত করেন।

বিষয়টি নিয়ে বাউফলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বশির গাজী একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসকের কাছে।

বাউফল সোনালী ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, কৃষি কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দাস পিএফএস প্রকল্পে খরচের জন্য গত ২০ জুন ১৮ লক্ষ টাকার একটি চাহিদাপত্র পাঠান বাউফল হিসাবরক্ষণ অফিসে।

বাউফলে মোট ১০টি পিএফএস (পার্টনার ফিল্ড স্কুল) রয়েছে। প্রত্যেক পার্টনার ফিল্ড স্কুলে ২৫ জন কৃষক রয়েছেন। এই প্রকল্পে খরচের নাম করে তিনি ১৮ লক্ষ টাকা তুলে নেন।

কিন্তু ১৮ লাখ টাকা ওই প্রকল্পে খরচ করা হয়নি। এভাবে গত ০৫ জুন সবজি চাষ প্রকল্পে খরচের জন্য ১০ লাখ ৬২ হাজার টাকা, ১১ জুন ৭ জেলা প্রদর্শনী উন্নয়ন প্রকল্পে খরচের জন্য ৭ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকা,

৯টি মাঠ দিবস ও ৩ ব্যাচ কৃষক প্রশিক্ষণের জন্য ৫ লক্ষ ১ হাজার টাকা, ২৩ জুন তেল জাতীয় ফসল প্রকল্পে খরচের জন্য ২ লক্ষ ১১ হাজার টাকা, ০২ জুন কন্দাল ফসল প্রকল্পের জন্য ১ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকা

এবং ১০ জুন সবজি চাষ প্রকল্পে খরচের জন্য ২ লক্ষ ৭৭ হাজার ৫০০ টাকার চাহিদাপত্র পাঠান।

পরে চাহিদাপত্র নিয়ে সোনালী ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নেন কৃষি কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দাস। এভাবে শুধু জুন মাসেই তিনি হিসাবরক্ষণ অফিসে চাহিদাপত্র পাঠিয়ে ৬০ লাখ টাকা তুলে নিয়েছেন।

একটি সূত্র জানায়, সোনালী ব্যাংক থেকে টাকা তোলার পর অনিরুদ্ধ দাস ব্যক্তিগত এবং স্বজনদের একাধিক হিসাবে টাকা জমা করেছেন।

অবশ্য ৬০ লাখ টাকা তোলার বিষয়ে বাউফলের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দাস বলেন, সোনালী ব্যাংক থেকে এত টাকা তুলেছি বলে আমার মনে হয় না। যদি তুলেও থাকি তা অফিসের কাজেই ব্যয় করেছি, আত্মসাত করিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *