আমাদের বাউফলধূলিয়া

বাউফলে প্রভাবশালীদের দখলে সরকারি জমি, থমকে আছে উন্নয়ন প্রকল্প

 

বাউফলে ধুলিয়া বাজারসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার সরকারি জমি স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখল করে দোকানঘরসহ নানা স্থাপনা করার কারণে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প থমকে আছে। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা তুলে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা-বাণিজ্য করে আসছেন ওই প্রভাবশালীরা।

সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজ ধুলিয়া বাজার সম্প্রসারণের জন্য বরাদ্দ দিলেও সরকারি জমি বেদখল থাকায় বাজার উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। ধুলিয়া বাজারের প্রধান সড়কের পশ্চিম পাশে সরকারি জমিতে ২০ থেকে ২২টি পাকা ও আধা পাকা ঘর রয়েছে।

এসব দোকানঘর অন্যজনের কাছে ভাড়াও দিয়েছেন দখলদাররা। দোকান ঘরের পেছনের ডোবা-নালায় মুরগির খামার ও মাছের ঘের করা হয়েছে। সরকারি জমিতে এসব দোকান ঘরের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মিয়ার ৪টি, সজল ওঝার ৩টি, সুশান্ত ওঝার ২টি, নাসির উদ্দিনের ১টি ও মিজান হাওলাদারের দখলে ২টি ঘর রয়েছে।

বাজার উন্নয়নের স্বার্থে সরকারি ওই জমি ছেড়ে দিতে বারবার বলা হলেও দখলদাররা জমি ছাড়ছেন না।

সর্বশেষ গত ২৬ জুন স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিস সীমানা নির্ধারণ করে লাল নিশান টাঙিয়ে দেন। কিন্তু জমি উদ্ধারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। স্থানীয়রা জানান, সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা করেছেন প্রভাবশালীরা। তারা নিয়মিত ভূমি অফিসে টাকা দিয়ে জমি দখলে রাখছেন।

সরকারি জমিতে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত সজল ওঝা, সুশান্ত ওঝা, নাসির উদ্দিন বলেন, ধুলিয়া মৌজায় রাজেশ্বর মণ্ডল নামে এক ব্যক্তিকে সরকার ৫০ শতাংশ জমি বন্দোবস্ত দেন। সেই জমি অনেকের কাছে তিনি বিক্রি করেন। পরে তাতে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ধুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মু. হুমায়ন কবির জানান, বাজার উন্নয়নের জন্য প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সরকারি জমি বেদখল থাকায় প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি ইউএনওকে জানানো হয়েছে। তিনি ব্যবস্থা নেবেন বলছেন।

দখলদারদের কাছে ম্যানেজ হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে ধুলিয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. সেলিম খান বলেন, প্রাথমিকভাবে খাস জমির সীমানা নির্ধারণ করে সেই জমিতে লাল নিশান টাঙিয়ে জমি দখলে নেওয়া হয়েছে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য উপজেলা প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।

বাউফল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক কুমার কুণ্ডু বলেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমরাও জড়িত। সরকারি জমি খালি করতে বলা হয়েছে। যদি স্ব-ইচ্ছায় চলে না যান, তাহলে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *