বগা

হাজারো রহস্যময় বৃক্ষ!এই বৃক্ষ সম্পর্কে জানলে আপনি শিহরে উঠবেন!

হাজারো রহস্যময় বৃক্ষ

এম.এ হান্নানঃ

প্রায় পাচঁ শতাধিক বছর ধরে দাঁড়িয়ে আছে অদ্ভুদ বৃক্ষটি। চারদিকে ছড়িয়ে আছে শাখা-প্রশাখা। আজও তাজা, তরুণ আর চিরসবুজ। বৃক্ষটির বার্ধক্যর ছাপও পড়েনি। মনে হয় এখনও তার যৌবন কাল।

জনশ্রুতি রয়েছে, বৃক্ষটির ডাল-পালা কাটলে রক্ত বের হয়। ৭০ সালের প্রলয়নকারী ঝড়, ৭ সালের সিডর, আয়লা সহ ছোট বড় কোনো ঝড়ে বৃক্ষটির পাতা বা ডাল ভেঙ্গে পড়তে দেখেনি কেউ।

এতদিন দাঁড়িয়ে থাকা বৃক্ষটি ঘিরে হাজারো রহস্যময় কাহিনী রয়েছে।

এই রহস্যময় শিমুল (তুলা গাছ) বৃক্ষটির পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার শেষ সিমান্ত দশমিনা উপজেলার পাশে বগা, বাশবাঁড়িয়া খালের পাশে প্রাচীন ঐতিহ্যের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

তবে বৃক্ষটির বয়স নিয়ে সঠিক কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রবীন ব্যক্তিরা বলেন, তাদের বাপ দাদার মুখ থেকে এই তুলা গাছটির গল্প শুনে আসছে। তারা (বাপ-দাদা) যে রকম বলেছেন, এখন সেরকমই আছে। তারা মনে করেন গাছটির বয়স ৫’শ বছরের বেশি হবে।

গাছটির নাম অনুসারে এই জায়গাটি তুলাতলা হিসাবে পরিচিতি পায়।বৃক্ষটিকে ঘিরে রয়েছে হাজারো অজানা রহস্য।

স্থানীয় বাসিন্দা খায়ের হাওলাদার জানায়, আমার দাদার মুখ থেকে অনেক রহস্যময় গল্প শুনেছি গাছটি সর্ম্পকে। তিনি বলেন ৭ বছর আগে এই গাছটিকে নিয়ে একটা রহস্যজনক ঘটনা ঘটে।

সেই ঘটনার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, ‘গাছটি কাটার জন্য বিভিন্ন সময় অনেক গাছের ব্যাপারীরা আসছে গাছটি কাটার জন্য কিন্তু কেউ কাটতে পারেনি।

গত ৭বছর আগে আমার বোন জামাই গাছটি কাটার জন্য শ্রমিক নিয়ে কাটতে যায়। শ্রমিকরা গাছটি কাটার জন্য দু- একটা কোপ দিয়ে গাছ কাটতে অসম্মতি জানায়। শ্রমিকরা জানায় গাছে কোপ দিলে তাদের মাথা ঘুরায়। পরক্ষণে আমার বোন জামাই খলিল গাছটি কাটার জন্য গাছে উঠে । একটি ডাল কেটে নেমে যায়।

দুই ঘন্টা ব্যবধানে তার রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু হয়’।

স্থানীয় জেলেরা জানান, ‘আমরা নদীতে মাছ ধরি। অনকে রাতে গাছের পাশ দিয়ে চলাচল করি। বিভিন্ন সময় এই গাছটির নিচে সাদা শাড়ি পড়ে কেউ একজন বসে আছে এমনটা দেখতে পাই।

আবার কখনো কখনো গাছের উপরে বসে কেউ কান্না করে। তবে কখনো আমাদের ক্ষতি করে না’।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা লাভু জানান, ‘আমি আমার বাবার কাছে শুনছি, অনেক বছর আগে নেদারল্যান্ড থেকে একটি জাহাজ এসে গাছটির পাশে নোঙ্গর করে। সে সময় জাহাজের আঙ্গিনার সাথে ধাক্কা লেগে গাছের ছাল উঠে যায়।

সেই রাতে জাহাজের চালকে স্বপ্নে বলা হয় যাবার আগে গাছের নামে মিলাদ দিতে হবে কিন্তু তারা মিলাদ দেয়নি। পরের দিন রওনা হলে জাহাজের ইঞ্জিন চালু হয়না। জাহাজের মিস্ত্রী ইঞ্জিনে কোনো সমস্যা ধরতে পারেনি।

সেদিন রাতে আবার জাহাজের চালককে স্বপ্নে বলা হয় মিলাদ পড়াতে অন্যথায় বড় ধরনের সমস্যা হবে।
পরের দিন গাছের নামে মিলাদ পড়ানো হলে জাহাজের ইঞ্জিন চালু হয়।
এছাড়াও অনেক অলৌকিক ঘটনা রয়েছে বৃক্ষটি ঘিরে।

কালাইয়া ইউপি চেয়ারম্যান এস.এম ফয়সাল আহম্মেদ জানান, ‘তুলা গাছটি কালের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দুর-দুরান্ত থেকে অনেকে গাছটি দেখতে আসেন। গাছটির বয়স সর্ম্পকে আমার সুস্পষ্ট ধারনা নাই, আনুমানিক ৫’শ বছর হবে গাছটির বয়স’।

সম্পাদনাঃরুশমি আক্তার তাহিরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *