কাছিপাড়া

পটুয়াখালী বাউফলে ৬ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা! বাদি পুলিশ

পটুয়াখালী বাউফলে ৬ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা! বাদি পুলিশ.
এম.জাফরান হারুনঃ পটুয়াখালী সরকারী কলেজ ও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ৬ শিক্ষার্থীকে অস্ত্র আইনের মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ বলছে, ওইসব শিক্ষার্থীরা বাউফলের কাছিপাড়া বাজারে অপরাধ কর্মকান্ড চালাতে এসে জনতার হাতে আটক হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ১টি খেলনা পিস্তল, ১টি চাপাতি ও ১টি ফল কাটার চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, তারা কালিশুরী এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়ি বেড়াতে এসেছিলো। তাদের কাছে কোন ধরণের অস্ত্র পাওয়া যায়নি। স্কুল ব্যাগের ভিতরে এসব অস্ত্র কে বা কাহারা রেখেছেন তাও আমরা জানিনা।
জানা গেছে, পটুয়াখালী সরকারি কলেজের অর্নাস দ্বিতীয় বর্ষের (অর্থনীতি) ছাত্র আল আমিন (২০), অর্নাস শেষ বর্ষের (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) ছাত্র রাজিব দেবনাথ (২৭), অর্নাস প্রথম বর্ষের ( গণিত) ছাত্র মিজানুর রহমান (২১), পটুয়াখালী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র মেহেদী হাসান তুহিন (২০) একই ইনস্টিটিউটের ছাত্র জোবায়ের হোসেন(২০) ও বরিশাল ইসলামিয়া কলেজের ছাত্র রাকিবুল ইসলাম (১৯) ঘটনার দিন গতকাল সোমবার বিকালে পটুয়াখালীর সবুজবাগ থেকে ইমামুল হোসেন মিলন (৪৩) নামের এক ব্যাক্তির সাথে তার শ্বশুর বাড়ি বাউফল উপজেলার কালিশুরী ইউপির ধলাপাড়া গ্রামে বেড়াতে আসে। মিলন ৭-৮মাস আগে ওই গ্রামের আবদুল জলিল মল্লিকের মেয়ে আক্তার জাহান মুন্নীকে বিয়ে করে। ওই সময় বিয়ে অনুষ্ঠানে তাদের মধ্যে কয়েক শিক্ষার্থীও এসেছিল। শিক্ষার্থীরা জানান, ভাড়ায় চালিত মটর সাইকেলযোগে তারা পটুয়াখালীর লোহালিয়া খেয়াঘাট থেকে বাউফলের বগা বন্দরে আসেন। সেখান থেকে বিকেল তিনটার দিকে ইমামুল হোসেন মিলনের সাথে তার শ্বশুর বাড়ি যান। ওই বাড়িতে যাওয়ার পর মিলনের সাথে তার স্ত্রী মুন্নীর ঝগড়া ঝাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে মুন্নী ডাকাত ডাকাত বলে ডাক চিৎকার করতে থাকলে তারা ভয়ে পালিয়ে গিয়ে পাশ্ববর্তী কাছিপাড়া বাজারে আশ্রয় নেয়। সেখানে স্থানীয় লোকজন তাদেরকে আটক করে। পরে খবর পেয়ে রাত সারে ৮টার দিকে বাউফল থানা পুলিশ গিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে। আল আমিন নামের এক শিক্ষার্থী জানান, স্কুল ব্যাগটি তাদের ছিলনা। ব্যাগটি ছিল ইমামুল ইসলাম মিলনের। ওই ব্যাগে কী ছিল তারা তাও জানেনা। ব্যাগে খেলনা পিস্তল ও ফল কাটার ছুরি রেখে তাদেরকে ফাঁসানো হয়েছে। তারা পড়া লেখার পাশাপাশি সবুজ বাগ এলাকায় ইয়াং পেগাসার্স নামের একটি ক্লাবের সাথে জড়িত। এটি আর্থ সামাজিক, বিজ্ঞান চর্চা ও ব্লাড ডোনেশন ক্লাব হিসাবে পরিচিত ।
স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ২ ডিসেম্বর তাদের বিয়ে হয় এবং চলতি বছরের ২৯ জুলাই তাদের মধ্যে তালাক হয়। মুন্নির বাবা আবদুল জলিল মল্লিক অভিযোগ করে বলেন, তার মেয়েকে জোড়পূর্বক অপহরণের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় তিনি গতকাল সোমবার রাত ১২টার দিকে বাউফল থানায় মামলা করতে গিয়ে জানতে পারেন, পুলিশ বাদি হয়ে ৬ জনকে আসামি করে অস্ত্র আইনে একটি মামলা করেছেন। তবে এই মামলায় ইমামুল হোসেন মিলনকে আসামী করা হয়নি।
এ ব্যাপারে বাউফল থানার ওসি মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ১৮৭৮ সালের আমর্স এ্যাক্টের সংশোধনী ২০০২ এর ১৯-এ ধারায় পুলিশ বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। (মামলা নম্বর ১২ তারিখ-১৩/৮/১৮) । তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *