আমাদের পটুয়াখালী

ব্যাগে ১৪ নবজাতকের দেহ

ভারতের কলকাতায় একটি খালি প্লটে আগাছা পরিষ্কার করতে গিয়ে প্লাস্টিকের ব্যাগে উদ্ধার হয়েছে ১৪টি নবজাতকের দেহ। রোববার (২ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতার হরিদেবপুর থানা এলাকার রাজা রামমোহন সরণিতে।

আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে জানায়, ২১৪ নম্বর রাজা রামমোহন সরণিতে কয়েক বিঘার একটি ফাঁকা জমি পরিষ্কার করার কাজ চলছিল। সে সময়ে শ্রমিকরা প্রথমে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ দেখতে পান। সেই ব্যাগ খুলতেই বেরিয়ে আসে একটি নবজাতকের দেহ। এরপর তল্লাশি করতেই আরও বেশ কয়েকটি বেরিয়ে আসে। ব্যাগগুলি থেকে এখনও পর্যন্ত ১৪টি এ রকম নবজাতকের দেহ পাওয়া গেছে। কিছু দেহ কয়েক দিনের মধ্যে ফেলা হয়েছে বলে মনে করা হয়েছে। আবার অনেকগুলি শিশুর কঙ্কাল বেরিয়ে পড়েছে। অর্থাৎ সেগুলি ফেলা হয়েছে অনেক দিন আগে।

খবর পেয়েই থানা থেকে পুলিশ গিয়ে তল্লাশি শুরু করে। আরও এ রকম দেহ আছে কিনা খুঁজে দেখা হচ্ছে। কীভাবে ওই দেহগুলো ওখানে এলো তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ঘটনাস্থলে যান কলকাতার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়।

তিনি বলেন, স্থানীয় কাউন্সিলরের কাছে খবর পেয়েই তিনি ছুটে যান। ১৪টি দেহ উদ্ধার হয়েছে। কীভাবে মৃত নবজাতক শিশুর দেহ ওই এলাকায় এল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানায়, ওই এলাকায় মদনমোহন জিউ ট্রাস্ট এবং স্থানীয় এক ব্যক্তির জমি মিলিয়ে দুটি জমি একসঙ্গে অদলবদল হয়। তারপর থেকেই পুরো জমির এক দিকে উঁচু পাকা পাঁচিল এবং অন্যদিকে টিন দিয়ে ঘেরা। একটি অংশে চলছে নির্মাণ কাজ। ওই জমির ভিতরেই থাকতেন মিস্ত্রিরা। রোববার সকালে তারা ওই টিনের পাঁচিলের গায়ে একটি ডুমুর গাছের গোড়ায় আগাছা ছাটাইয়ের কাজ করছিলেন। সেই সময়ই একটি বড় আকারের কালো প্লাস্টিক ব্যাগ পান তারা। সেই ব্যাগে মেলে একটি নবজাতকের দেহ। কিছুটা দূরেই দেখতে পান আরও একটি প্লাস্টিক ব্যাগ। সেই ব্যাগেও পাওয়া য়ায় একটি নবজাতকের দেহ।

এরপরই পুলিশে খবর দেন ওই শ্রমিকরা। পুলিশ গিয়ে গোটা এলাকা তল্লাশি শুরু করে। প্রায় একইভাবে প্লাস্টিক ব্যাগের মধ্যে মেলে ১৪টি শিশুর দেহ। সেগুলির অধিকাংশই পচে গলে গিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকা জমি দিয়ে ঘেরা। ভিতরে পুকুর ভরাট করে নির্মাণ কাজ হচ্ছে বলেও তাদের সন্দেহ।

অসীম সরকার বলেন, ওই টিনের বেড়ার বিভিন্ন জায়গায় ফাঁকা রয়েছে। সেখান দিয়ে অনায়াসেই যে কেউ ঢুকে পড়তে পারে। তাদের সন্দেহ ওই ফাঁক দিয়েই কোনওভাবে মৃত শিশু বাইরে থেকে এনে এখানে ফেলে দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে তদন্তে নেমে পুলিশ ওই এলাকায় তেমন কোনও সিসিটিভি পায়নি। তবে ঘটনাস্থলের প্রায় উল্টো দিকেই একটি চারতলা বাড়িতে ঢোকার পথে সিসিটিভি বসানো আছে। সেই সিসিটিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখে কোনও সূত্র মিলতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *