বাংলাদেশ

আনন্দ টিভি’র পাবনা প্রতিনিধিকে কুপিয়ে হত্যা!

রুশমি আক্তারঃ

 

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘আনন্দ টিভি’র পাবনা প্রতিনিধি সুবর্না নদীকে (৩২) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (২৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

সুবর্ণা আনন্দ টিভির পাবনা প্রতিনিধি এবং স্থানীয় অনলাইন পোর্টাল ‘দৈনিক জাগ্রত বাংলা’র সম্পাদক ও প্রকাশক।

সুবর্ণার ফেইসবুক আইডি থেকে জানা যায়, তিনি বেশ কিছুদিন থেকে ফেইসবুক আইডি নিয়ে বিভিন্ন  সমস্যায় ছিলেন। এই সমস্যা নিয়ে নিহত সুবর্ণা ফেইসবুকে একটা স্ট্যাটাস ও দেয়েছিলেন(গত ১২ আগ)  । আর এই তথ্যটি তার আইডি থেকে জানা গেছে।

ফেসবুকে সুবর্ণার মোট দুইটি আইডি রয়েছে। তার পুরনো আইডিটি Shobarna Nodi নামে। সেটি অনেক পুরাতন। কিন্তু খুন হবার ১৬ দিন আগে (গত ১২ আগস্ট) সুবর্ণা নিজের আরেকটি আইডিতে বন্ধুতের ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠাতে বলেছিলেন।


‘সুবর্ণা নদী’ নামের নতুন আইডির লিংকটি তিনি পুরাতন আইডিতে পোস্ট করে লিখেছিলেন, ‘আমার এই আইডিতে একটু প্রব্লেম হয়েছে। সবাই আমার এই আইডিতে রিকুয়েস্ট পাঠান লিংক দেওয়া আছে।

পাবনায় সুবর্ণা আক্তার নদী (৩২) নামের এই নারী সাংবাদিককে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে পাবনা শহরের রাধানগর মজুমদারপাড়া এলাকায় নিজ বাসায় ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

পৌর সদরের রাধানগর মহল্লায় আলীয়া মাদরাসার পশ্চিম পাশের একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন সুবর্ণা।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইবনে মিজান বলেন, বাসার কলিং বেল টিপে কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তাকে ডেকে বের করে। সুবর্ণা নদী গেইট খোলার সাথে সাথে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

স্থানীয়রা সুবর্ণাকে পাবনা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান। সুবর্ণাকে কারা খুন করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শামিমা আকতারসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে সুবর্ণা নদী হত্যার কারণ জানা যায়নি। তবে আমাদের পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছেন প্রকৃত ঘটনা উদ্ধারের জন্য। সুবর্ণা নদী আনন্দ টিভির পাশাপাশি দৈনিক জাগ্রত বাংলা পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে  কাজ করতেন। তার ৯ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে।

পাবনার এক ব্যবসায়ীর ছেলে রাজিব ছিলেন সুবর্ণার স্বামী। সম্প্রতি তাদের বিচ্ছেদ হয়। এনিয়ে আদালতে একটি মামলাও চলছে বলে স্থানীয়রা জানান। সুবর্ণা হত্যার ঘটনায় পাবনায় কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

পাবনা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী বাবলা বলেন, “প্রত্যক্ষদর্শীরা আমাদের জানিয়েছেন, ১০/১২ জন সন্ত্রাসী কয়েকটি মোটর সাইকেলে এসে তাকে কুপিয়ে দ্রুতবেগে চলে যায়। যারা এই ঘটনার সাথে জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি আওয়াল কবির জয় সাংবাদিক সুবর্ণা খুনের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *