বাংলাদেশ

গ্রামীণ নারীর কাজ দৃশ্যমান, কাজের মূল্য অদৃশ্য!

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কত-শত কাজ গ্রামীণ নারীর। প্রাত্যহিক রান্না, গৃহপালিত পশুর দেখাশোনা, সন্তানের পরিচর্যা, বাড়ি-ঘর পরিষ্কার, কাপড়-চোপড় ধোয়া। এর পাশাপাশি গ্রামীণ নারীর প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ রয়েছে কৃষিকাজে। গ্রামে কৃষিকাজে নারীদের অংশগ্রহণ কোনোভাবেই পুরুষের চেয়ে কম না। বরং, কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরুষকে ছাপিয়ে নারীর অংশগ্রহণই বেশি। এসব নারীর কাজ দৃশ্যমান হলেও তার কাজের মূল্য থেকে যাচ্ছে অদৃশ্য।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নারীরা পারিবারিক শ্রম ছাড়াও কৃষি, মৎস্য, বনায়ন, গবাদিপশু পালনসহ বিভিন্ন ধরনের শ্রমে অবৈতনিকভাবে জড়িত। অথচ এসব অদৃশ্য শ্রমের আর্থিক মূল্য না থাকায় তাকে পরিবার ও সমাজে অবমূল্যায়িত হতে হয়। নারীর শ্রমকে পারিবারিক কাজ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং এ কাজ অবৈতনিক এবং তার জন্য কোনো আর্থিক মূল্য পান না নারীরা। যদি নারীর অবমূল্যায়িত কাজের অংশ জাতীয় অর্থনীতিতে যোগ করা হতো, তাহলে জাতীয় উৎপাদনে নারীর অবদান ২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪০ শতাংশ হতো।

শ্রমশক্তি জরিপের হিসাব অনুযায়ী, দেশের মোট ১ কোটি ২০ লাখ নারী শ্রমিকের মধ্যে শতকরা ৭৭ শতাংশই গ্রামীণ নারী। যারা মূলত কৃষিকাজ, হাঁস-মুরগি পালন, পশুপালন এবং মাছ চাষের মতো কৃষিসংশ্লিষ্ট কাজের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কৃষিখাতে নারীর এই অংশগ্রহণকে পারিবারিক শ্রম হিসেবে গণ্য করা হয়, যা সম্পূর্ণ অবৈতনিক এবং আর্থিক মূল্যহীন। গবেষণা থেকে জানা যায়, কেবলমাত্র বীজ বপন থেকে শুরু করে ধান উৎপাদনের ২৫টি ধাপের মধ্যে অন্তত ২০টিতেই নারীর অবদান রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের এক জরিপ অনুযায়ী, দেশের কৃষিতে নারীর অবদান ৬০ থেকে ৬৫ ভাগ।

যদিও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কাছে কৃষি কাজে জড়িত নারীদের বিষয়ে কোনো তথ্য নেই! নারীরা কৃষক বলেও চিহ্নিত নন। খোদ এই অধিদফতরের কাছ থেকেও নারীর অবদান নিয়ে সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। তবে একাধিক তথ্য মতে, গত এক দশকে অবৈতনিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ শ্রমিকের ৫০ লাখই নারী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *