বাংলাদেশ

রাজা বাবুর সঙ্গে সিপাহী ফ্রি!

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার দিঘুলিয়া ইউনিয়নের দেলুয়া গ্রামে সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে ‘রাজা বাবু’র লালন পালন হচ্ছে রাজার মতই। রাজা বাবুর থাকার ঘরে লাগানো হয়েছে ৫ টি ফ্যান, ২৪ ঘন্টা ২০ বার করানো হচ্ছে গোসল, রাজা বাবুর প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় থাকে ২০ কেজি ভূসি, ১০ হালি কলা, ২ কেজি মাল্টা, ৫ হালি কমলা লেবু, ২ কেজি চিড়া, ১ পোয়া ইসবগুল, কয়েকটি বেল ও ডাব দিয়ে বানানো শরবত ইত্যাদি।

এই ষাঁড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর রাখছে চিকিৎসকরা। রাজা বাবুর নিরাপত্তায় রাতে পুলিশ টহলও দেয় মাঝে মাঝে। রাজা বাবুকে দেখতে প্রতিদিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শত শত মানুষ মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার দিঘুলিয়া ইউনিয়নের দেলুয়া গ্রামের কৃষক খাইরুল ইসলাম খান্নুর বাড়িতে ভিড় করছে।

এতো বড় গরু পালন করে ব্যাপক প্রচার পেলেও গরুটি বিক্রি নিয়ে চিন্তায় পড়েছে মালিক খাইরুল। ক্রেতারা গত বছর রাজা বাবুর দাম বলেছিল ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা, কিন্ত খাইরুল ১৫/১৬ লাখ টাকা দাম আশা করেছিল। কাঙ্খিত মূল্য না পাওয়ায় গত বছর তা বিক্রি করেনি। এবার রাজা বাবুর দাম আশা করছে ২৫ লক্ষ টাকা। এতো বড় গরু বিক্রি হবে কিনা তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছে রাজা বাবুর মালিক।

সাটুরিয়া উপজেলা প্রাণি সম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. সেলিম জাহান জানান, গত ২৭ জুলাই রাজা বাবুকে দেখতে খায়রুল ইসলাম খান্নুর বাড়িতে যাই।

খান্নু জানিয়েছে, রাজা বাবুর বর্তমান বয়স ৩ বছর ১০ মাস। ৬ দাঁতের ওই ষাঁড়ের আকার ও ওজন পরিমাপ করেছেন তিনি। এতে দেখা যায়, গরুটির উচ্চতা ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি, লম্বা ৮ ফুট, বুকের পরিমাপ ১০ ফুট, মুখ চওড়া ৩ ফুট ২ ইঞ্চি, গলার বেড় ৫ ফুট, শিং ১ ফুট লম্বা, লেজের দৈর্ঘ্য ৪ ফুট ৩ ইঞ্চি এবং ওজন ২ হাজার ৯৪ কেজি অর্থাৎ ৫৩ মণ। কিন্ত গত ১০ দিনে গরুটির আরো ২ মণ ওজন বেড়েছে। বর্তমানে গরুটির ওজন ৫৫ মণের কাছাকাছি।

রাজা বাবুর মালিক খাইরুল ইসলাম খান্নু ও তার ছোট মেয়ে ইতি গতবছর শেখ হাসিনা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর হতে প্রশিক্ষণ নিয়েই গরু পালন করে।

ইতি জানায়, প্রতিদিন রাজা বাবুর জন্য তার খরচ প্রায় ২ হাজার টাকা। দুই বছর আগে সাভার উপজেলার বারাহিরচর এলাকার কৃষক কুদ্দুস মুন্সীর কাছ থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে ১৮ মণ ওজনের এই হলস্টেইন ফ্রিজিয়ান জাতের গরুটি কিনেন তিনি। এক বছর লালন পালনের পর গত কোরবানির ঈদের সময় গরুটির ওজন দাঁড়ায় ৩৯ মণে। ক্রেতারা গরুটির দাম করেছিলেন ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। একটু বেশি দামে বিক্রি করার আশায় গতবার গরুটি বিক্রি করতে পারিনি। এবার গরুটির ওজন বেড়ে হয়েছে প্রায় ৫৫ মণ। এবার এর দাম হাঁকাচ্ছি ২৫ লাখ টাকা। গরুটি বিক্রি নিয়ে বড়ই চিন্তায় রয়েছি। ভাল দাম পেলে এ গরুটির সাথে আমার বাড়ির ২ লক্ষ টাকা দামের আরেকটি ষাড় উপহার দিবো।

কেআই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *