ব্রেকিং নিউজ

বালুক্ষয়ে হারিয়ে যেতে বসেছে কুয়াকাটার সৈকত!

বর্ষা মৌসুমে উত্তাল হয়ে উঠেছে সমুদ্র, তাই বালুক্ষয়ের মাত্রা তীব্র আকার ধারণ করেছে সমুদ্রকন্যা কুয়াকাটায়। পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমন অবস্থা চলতে থাকলে বছর না পেরুতেই সমুদ্রগর্ভে চলে যাবে পর্যটন কেন্দ্রের অনেকাংশ। তবে বছরের পর বছর পার করেও শুধু দাপ্তরিক কার্যক্রমই শেষ করতে পারছেনা পানি উন্নয়ন বোর্ড। বিস্তারিত জানাচ্ছেন এম এ আজীম।

সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ রাক্ষুসি থাবার আকার ধারণ করে প্রতি জোয়ারে এভাবে আছড়ে পড়ছে সমুদ্রপাড়ে। পানির এমন আঘাতের সামনে বালুতীর,গাড়পালা,পাকা স্থাপনা বা পিচ ঠালাই রাস্তা কোনো কিছুই টিকছেনা।

বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই দৃষ্টিনন্দন নারিকেল বাগানকে নিশ্চিহ্ন করেছে বালুক্ষয়। আর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধকে শুধু বিধ্বস্ত করেনি বাঁধ সুরক্ষায় দেয়া বøকেও ধ্বস নামাচ্ছে। পশ্চিম পাশের ঝাউ বাগানকে করেছে ধ্বংসস্তুপ,আর ইকো পার্কটির তিন ভাগের দুই ভাগ এখন সমুদ্রগর্ভে। হুমকিতে আছে কুয়াকাটা সাগর সৈকত জামে মসজিদ ও ঐতিহ্যবাহী রাস মন্দিরটি।

এক স্থানীয় বলেন, ‘হাজার হাজার ব্যাবসায়ী পথের ফকির হয়ে যাবে।’

আরেকজন বলেন, ‘সরকারের উছিলায় কোনো ভাবে কি এই কিনার রক্ষা করা যায় না? তাহলে আমরা উপকৃত হব।’

দ্দধু তাই নয়, একটি একটি করে আবাসিক হোটেল মোটেলসহ বিভিন্ন স্থাপনা হারিয়ে যাচ্ছে সমুদ্রগর্ভে।পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বালুক্ষয় প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে সরকারি বা বেসরকারি কোনো উন্নয়ন টিকিয়ে রাখা সম্ভবনা।
‘দীর্ঘদিন যাবৎ শুনে আসছি যে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে তারা বড় কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে। কিন্তু আসলে আমরা দেখছি, কোনো কিচুর উদ্যোগ তো নেই। কুয়াকাটা যে বিলীন হয়ে যাচ্ছে সেটা নিয়েও তাদের কোনো তৎপরতা নেই।’

এদিকে দুর দুরন্ত থেকে সৌন্দর্য্য উপভোগে ছুটে আসা পর্যটকদের এমন ধ্বংসস্তুপ হতাস করছে ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আবুল খাযের বলছেন, ২০১৬ সাল থেকে শুরু হওয়া স্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজের দাপ্তরিক কার্যক্রম শেষ না হওয়ায় কাজ শুরু করতে পারছেনা।

তিনি বলেন, ‘এমন তো না যে আমরা বসে আছি। একেকবার একেক ধরণের ইনকয়্যারি দেয়, সেগুলো স্যাটিসফাই করতেই অনেক সময় লাগছে।’

প্রায় ৩ কিলোমিটার প্রশস্ত সমুদ্রপাড় বালু ক্ষয়ের কারণে এখন মাত্র ৫শ থেকে সারে ৫শ ফুটে এসে দাঁড়িয়েছে।

একমাত্র সূর্যদয় এবং সূর্যাস্ত দেখার স্থান কুয়াকাটা। তবে এই মুহুর্তে বালুক্ষয় রোধে এখানে কোন ব্যাবস্থা না নিলে, দিন শেষে সূর্যাস্তের মত হারিয়ে যাবে বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন সম্ভাবনাময় এই পর্যটন কেন্দ্রটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *