খেলাধুলা

সাকিব-তামিমের না থাকাটা ইতিবাচক

বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ও ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবালকে ছাড়াই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজে খেলতে হবে টাইগারদের। দলের প্রধান দুই তারকার না থাকাটা যে কোনো প্রতিপক্ষের জন্য সুখের খবরই। জিম্বাবুয়েও তাই একটু নির্ভার থাকতেই পারে।

তাদের দলে না থাকার বিষয়টি দুঃখজনক হলেও এটা ইতিবাচকভাবেই দেখছেন বাংলাদেশের প্রধান কোচ স্টিভ রোডস। তাছাড়া নতুনদের জন্য এটি বড় সুযোগ বলেও মানছেন টাইগার কোচ।

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টাইগারদের চতুর্থ দিনের অনুশীলন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বাংলাদেশ কোচ স্টিভ রোডস। এ সময় কোচ বলেন, ‘আমি এটা সত্যিকারভাবেই ইতিবাচক হিসাবে দেখছি। এটি অন্য অন্য ক্রিকেটারদের জন্য অনেক দারুণ সুযোগ। যদি সেই তারা এই সুযোগটি বুঝে কাজে লাগাতে পারে তবে এটি আমাদের দলের জন্য খুব ভালো হবে। যদি তারা জায়গা পাওয়ার জন্য সবসময় প্রতিযোগিতার মাঝে থাকে তাহলে তারা তাদের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করবে। এটা খুব ভালো দিক। আমরা এটি গভীরভাবে চাই।’

সাকিবের জায়টা পূরণ করার মতো ক্রিকেটার বাংলাদেশে নেই। তারপরও আসন্ন সিরিজে মেহেদী হাসান মিরাজ এবং নাজমুল ইসলাম অপুর উপর ভরসা করছেন কোচ। এই মূল স্পিনারদের পাশাপাশি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও থাকবেন স্পিন আক্রমণে। এছাড়া ফজলে রাব্বী সুযোগ পেলে তাকেও কাজে লাগাবেন কোচ। তবে মিরাজকেই বাড়তি দায়িত্বটা দেয়ার বিষয়ে ভাবছেন তিনি।

এ বিষয়ে কোচ বলেন, ‘অপু একজন স্পিনার। সে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভালো করে দেখিয়েছে। আমরা জানি সে ওডিআইতে ভালো বল করতে পারে। যদি অপু খেলে তবে আমাদের দুইজন ভালো মানের স্পিনার থাকবে। তাছাড়া রিয়াদও অনেক ভালো বোলার। ফজলে রাব্বী যদি খেলতে পারে তাহলে তাকে দিয়ে কিছু ওভার বোলিং করিয়ে কাজে লাগাতে পারব। সাকিব মেধাবী স্পিনার, ব্যাটসম্যান, ফিল্ডার এবং কৌঁশলবিদ। তার বদলি আমাদের নেই। তবে আমাদের দলে মিরাজকে বিশেষ দায়িত্ব নিতে হবে।’

অনেক দিন পর জিম্বাবুয়ে সিরিজ দিয়ে জাতীয় দলে ফিরেছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। এশিয়া কাপে আঙ্গুলে চোট পেয়েছেন দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মতুজা। মূলত একজন বাড়তি ফাস্ট বোলার হাতে রাখার জন্যই তাকে দলে নেয়া হয়েছে বলে জানালেন টাইগার কোচ।

সাইফুদ্দিনকে নিয়ে রোডস বলেন, ‘আমি মনে করি সাইফউদ্দিন একজন ভালো অলরাউন্ডার। তার সর্বোচ্চ পর্যায়ে বল করার ক্ষমতা আছে। সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বাদ পেয়েছে। আমরা আশা করি তাকে আরও পরিপক্ক হতে হবে। মাশরাফি সম্প্রতি চোট পেয়েছে। তার পরিবর্তে কাউকে প্রস্তুত রাখার বিষয়ে আমাদের ভাবতে হচ্ছে। তাছাড়া আমরা সাইফউদ্দিনকে কিছু ক্রিকেট খেলার সুযোগ দিতে চাই যাতে সে প্রস্তুত হতে পারে। আমি তার দৃষ্টিভঙ্গি ও মনোভাব খুব পছন্দ করি।’

আগামী ২১ অক্টোবর মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে শুরু হবে একদিনের ক্রিকেট সিরিজ। ২৪ অক্টোবর চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় ম্যাচ। এই ভেন্যুতেই ২৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের শেষ ওয়ানডে ম্যাচ।

এরপর সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৩ নভেম্বর শুরু হবে টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ। সিলেটে ম্যাচ শেষে করে দুই দল আবার ঢাকায় ফিরবে। ১১ নভেম্বর মিরপুরে শুরু হবে সিরিজের শেষ টেস্ট ম্যাচ। তিন ম্যাচের ওয়ানডে আর দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে গেল ১৬ অক্টোবর ঢাকায় আসে জিম্বাবুয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *