খেলাধুলা

২০০ উইকেটে প্রথম বাংলাদেশি সাকিব

ইনজুরি কাটিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ফেরাটা দারুণভাবেই না সাজিয়েছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। চার মাস পরে টেস্ট ক্রিকেটে ফিরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে বোলিং করতে এসে নিজের প্রথম বলেই নিয়েছিলেন উইকেট, প্রথম ওভারে নেন আরও একটি।

উইকেটের পেছনে মুশফিকুর রহিম ক্যাচ না ছাড়লে এক ওভারেই তিন উইকেট হয়ে যেত সাকিবের। পরে ব্যক্তিগত চতুর্থ ওভারের চতুর্থ বলে ক্যাচ ছাড়েন মোস্তাফিজুর রহমান। না হলে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যাওয়ার আগেই প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ২০০ উইকেট হয়ে যেত সাকিবের।

তখন না হওয়া ২০০ উইকেট হয়নি পুরো ইনিংসেই। সাকিবের জোড়া উইকেটের পর ক্যারিবীয় ইনিংসে চলে অভিষিক্ত নাঈম হাসানের অফ স্পিন ভেলকি। সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেকেই পাঁচ উইকেট নেয়ার রেকর্ড গড়েন তিনি। একটি উইকেট নেন মেহেদি হাসান মিরাজ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অলআউট করে দেয়ার পথে ইনিংসের একদম শেষ উইকেটটি নেন সাকিব। ১৯৬ উইকেট নিয়ে খেলা শুরু করে তার উইকেট সংখ্যা দাঁড়ায় ১৯৯। ২০০ উইকেটের অপেক্ষা বেড়ে যায় দ্বিতীয় ইনিংস পর্যন্ত।

তবে দ্বিতীয় ইনিংসে অপেক্ষাটা খুব বেশি দীর্ঘ হতে দেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। ক্যারিবীয়দের দ্বিতীয় ইনিংসের প্রথম উইকেটের পতন ঘটিয়ে বাংলাদেশের প্রথম ও বিশ্বের ৭২তম বোলার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ২০০ উইকেট নেয়ার মাইলফলক স্পর্শ করেছেন সাকিব।

২০০৭ সালে টেস্ট অভিষেক হওয়া সাকিবের ২০০ উইকেট নিতে বোলিং করতে হয়েছে ৫৪টি টেস্টের ৯০ ইনিংসে। ১৮ বার ইনিংসে পাঁচ উইকেট ও দুইবার ম্যাচে দশ উইকেট নিয়ে এ মাইলফলকে প্রবেশ করেছেন সাকিব।

২০১০ সালে ক্যারিয়ারের ১৫তম টেস্টে ৫০ উইকেটের মাইলফলকে প্রবেশ করেছিলেন সাকিব। বছর দুয়েকের মধ্যেই ২০১২ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খুলনায় নিজের ২৮তম টেস্টে দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে ১০০ উইকেট নেন তিনি। একশ থেকে দেড়শ’তে পৌঁছতে কেটে যায় ৪ বছর। ক্যারিয়ারের ৪২তম টেস্টে ১৫০ উইকেট নেয়ার পর আজ ৫৪তম টেস্টে ২০০ উইকেটের ক্লাবে ঢুকলেন সাকিব।

বোলারদের মধ্যে ৭২তম হলেও অলরাউন্ডার হিসেবে ২০০ উইকেট নিয়ে বেশ উপরের দিকেই রয়েছেন সাকিব। ব্যাট হাতে চট্টগ্রাম টেস্টের পর তার সংগ্রহ ৩৭২৭ রান। টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে ব্যাট হাতে ৩৫০০+ এবং বল হাতে ২০০ উইকেটের ডাবল কীর্তি গড়া মাত্র নবম ক্রিকেটার তিনি। তার আগে এই ডাবল নিতে পেরেছেন ছয় দেশের আটজন ক্রিকেটার।

বাংলাদেশিদের মধ্যে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেট

১/ সাকিব আল হাসান – ২০১* উইকেট
২/ মোহাম্মদ রফিক – ১০০ উইকেট
৩/ তাইজুল ইসলাম – ৮৮* উইকেট
৪/ মাশরাফি বিন মর্তুজা – ৭৮* উইকেট
৫। শাহাদাত হোসেন রাজীব – ৭২* উইকেট

টেস্টে ৩৫০০ রান ও ২০০ উইকেট নেয়া ক্রিকেটারদের তালিকা

১/ কপিল দেব (ভারত) – ৫২৪৮ রান ও ৪৩৪ উইকেট
২/ শন পোলক (দক্ষিণ আফ্রিকা) – ৩৭৮১ রান ও ৪২১ উইকেট
৩/ স্যার ইয়ান বোথাম (ইংল্যান্ড) – ৫২০০ রান ও ৩৮৩ উইকেট
৪/ ইমরান খান (পাকিস্তান) – ৩৮০৭ রান ও ৩৬২ উইকেট
৫/ ড্যানিয়েল ভেট্টোরি (নিউজিল্যান্ড) – ৪৫৩১ রান ও ৩৬২ উইকেট
৬/ জ্যাক ক্যালিস (দক্ষিণ আফ্রিকা) – ১৩২৮৯ রান ও ২৯২ উইকেট
৭/ স্যার গ্যারি সোবার্স (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) – ৮০৩২ রান ও ২৩৫ উইকেট
৮/ অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ (ইংল্যান্ড) – ৩৮৪৫ রান ও ২২৬ উইকেট
৯/ সাকিব আল হাসান (বাংলাদেশ) – ৩৭২৭ রান ও ২০০ উইকেট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *