মতামত

থামতে জানাটাও সাফল্যেরেই অংশ: প্রভাষ আমিন

সত্যি এবার সময় এসেছে ক্লাসে ফিরে যাওয়ার। তবে রাষ্ট্রকে বদলানোর কাজ যেন থেমে না যায়। বিশৃঙ্খলা তো শুধু রাস্তায় নয়, বিভিন্ন স্তরে রয়েছে। শিশুদের দেখানো পথে শৃঙ্খলা আনতে হবে সব জায়গায়। তবে সময়মতো থামতে জানাটা কিন্তু চলার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। থামাটাও কিন্তু আন্দোলনের সাফল্যেরই অংশ। সময়মতো থামতে পারেনি বলে গণজাগরণ মঞ্চের মতো মহৎ আন্দোলনে নানান রং চড়ানো গেছে। ৫ দিনের মধ্যে অন্তত দুদিন আমি অবরোধে হেঁটে অফিসে গেছি। শিক্ষার্থীদের সাথে রাজপথে হেঁটেছি, খুব আনন্দের সাথে। সাধারণ মানুষও হাসিমুখে দুর্ভোগ মেনে নিচ্ছে। তবে কতদিন মানবে? মানুষ বিরক্ত হওয়ার আগেই কিন্তু থামতে হবে। লেবু বেশি চিপলে তিতা হয়ে যায়।

 

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে দৃঢ় কমিটমেন্ট, স্বচ্ছ ও সৎ মনোবল থাকলেও কোনো নেতা নেই, কারও কমান্ড নেই, প্লাটফরম নেই। তাই এ আন্দোলনে বিভ্রান্তি ছড়ানো, স্যাবোটাজ করা সহজ। বুধবার হবিগঞ্জ থেকে আসা এক কলেজছাত্র গাড়ি ভাংচুর শুরু করলে আন্দোলনকারীরা তাকে পুলিশে দেয়। প্রথমে নিজেকে ছাত্রলীগ দাবি করলেও পরে স্বীকার করেছে বাঁচার জন্য এ পরিচয় দিয়েছে। এ ধরনের ঘটনা আরও ঘটতে পারে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্যাবোটাজের আশঙ্কার কথা বলেছেন। স্যাবোটাজ ভেতর থেকে হতে পারে, জামাত-শিবির করতে পারে, জঙ্গিরা করতে পারে, এমনকি ছাত্রলীগও করতে পারে।


তাই অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ আপনার সন্তানকে ঘরে ফিরিয়ে নিন। তাদের দাবির সাথে সবাই একমত। কোটি মানুষ তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আন্দোলন পুরোপুরিই সফল। এখন আন্দোলনের ফসল ঘরে তোলার পালা। সব দাবি মেনে নেয়ার পরও যারা এদের মাঠে রাখতে চায়, তাদের ভিন্ন উদ্দেশ্য আছে। এরপর তাদের সামনে রেখে কেউ রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চাইতে পারে। সতর্ক থাকবেন, আপনার-আমার সন্তান যেন কারও রাজনীতির গুটি না হয়।
তবে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের- রাজপথে এবং স্কুলে। নিরাপদ হোক সড়ক, নিরাপদ হোক দেশ।

পরিচিতি : হেড অব নিউজ,এটিএননিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *