অপরাধবাংলাদেশ

শ্বশুর ঘিরে ‘এমন কথা’ সইতে পারেনি লাইজু

বরগুনার আমতলীতে শ্বশুরের সঙ্গে পরকীয়ার অপবাদে অভিযোগে লাইজু আক্তার নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। লাইজুর বাড়ি উপজেলার পশ্চিম সোনাখালী গ্রামে।

ঘটনার দিন রাতেই আমতলী থানায় আত্মহত্যা প্ররোচনার একটি মামলা করা হয়। মামলার আসামি লাইজুর শ্বশুর শানু হাওলাদার ও শাশুড়ি আকলিমা বেগমকে এরইমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গেল বছরের ডিসেম্বরে বিয়ে হয়েছিল লাইজু আক্তারের। তবে বিয়ের পর শশুর বাড়ি সুখ খুব বেশি দিন থাকেনি। কারণ বিয়ের কিছু সময় পর থেকে তার সঙ্গে শ্বশুরের পরকীয়া আছে বলে অভিযোগ করেন শাশুড়ি। কিন্তু, তা অস্বীকার করে আসছিলেন পুত্রবধূ লাইজু। এর কিছুদিন পর আত্মহত্যা করেন লাইজু। নিহত ওই গৃহবধূর পরিবার ও পুলিশ জানায়, শাশুড়ির ‘অপবাদের’ কারণেই আত্মহত্যা করেছেন তিনি।

উপজেলার পশ্চিম সোনাখালী গ্রামের মধু আকনের কন্যা লাইজুর সঙ্গে একই গ্রামের শানু হাওলাদারের ছেলে মামুনের গত ডিসেম্বরে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে মামুন তার বাবা-মায়ের কাছে লাইজুকে রেখে ঢাকায় কাঁচামালের ব্যবসা করছেন।

মাস দুয়েক আগে শ্বশুর শানু হাওলাদারের সঙ্গে গৃহবধূ লাইজুর পরকীয়ার সম্পর্ক আছে বলে অভিযোগ করেন শাশুড়ি আকলিমা বেগম। এ নিয়ে প্রায়ই শাশুড়ির সঙ্গে ঝগড়া লেগে থাকতো লাইজুর। শুক্রবার (১০ আগস্ট) দুপুরে আকলিমা একই বিষয় তুলে তাকে আবার গালিগালাজ করেন।

এই পুরো ঘটনার কথা লাইজু মোবাইলে স্বামী মামুনকে জানান। মামুন এ সময় মায়ের সঙ্গে একমত হয়ে লাইজুর বিরুদ্ধে একই অভিযোগ আনেন। এরপর পরই ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। শনিবার (১১ আগস্ট) সকালে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় গত শুক্রবার রাতেই লাইজুর মা গোলেনুর বেগম বাদী হয়ে মামুনকে প্রধান আসামি করে ৩ জনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন। ওই রাতেই শ্বশুর শানু হাওলাদার ও শাশুড়ি আকলিমা বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরের দিন শনিবার পুলিশ গ্রেপ্তার দু’জনকে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে পুলিশ হেফাজতে পাঠায়।

এ ব্যাপারে নিহত লাইজুর মা গোলেনুর বেগম বলেন, ‘শুক্রবার আমার মেয়ে আমাকে ফোন দিয়ে ওর স্বামী মামুন ও শাশুড়ি আকলিমা অপবাদ দিয়ে গালাগাল করেছে বলে জানায়। আমার মেয়ে শাশুড়ি ও জামাইয়ের অপবাদ সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’

এ বিষয়ে আমতলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইমানুল ইসলাম ইমন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে লাইজু আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আলাউদ্দিন মিলন বলেন, এ ঘটনায় আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা হয়েছে। মামলার আসামি শ্বশুর ও শাশুড়িকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *