অপরাধআন্তর্জাতিক

বাবাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করলো ছেলে!

রুশমি আক্তার তাহিরাঃ

প্রকাশ্যে বাবাকে পিছমোড়া করে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করল ছেলে।

তিনি মাঝে মধ্যেই ভালো মন্দ খেতে চাইতেন। কখনও মাছ বা ডিম। বউমার আচার-আচরণও পছন্দ ছিল না তার। এ নিয়ে প্রতিদিন ঝামেলা লেগেই থাকতো। তখন বাবাকে যা ইচ্ছে তাই গালিগালাজ করত ছেলে। এখানেই শেষ নয়। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গের তেহট্ট থানার হাউলিয়া পার্ক এলাকায়।

এই অত্যাচারিত বাবার নাম ভীম শর্মা। কাঠের কাজ করতেন ভীমবাবু। কয়েক বছর আগে স্ত্রীর মৃত্যু হয়। তার দুই ছেলে। বড় ছেলে প্রহ্লাদ দেবগ্রামে ব্যবসা করেন। ছোট ছেলে পরিতোষ ও বউমা কাজলী শর্মা তার সঙ্গে একই বাড়িতে থাকে। বৃদ্ধ হয়েছেন, কাজ কমেছে ভীমবাবুর। এখন আর তেমন রোজগার নেই। এই বৃদ্ধের ওপর বেশ কয়েকদিন ধরেই মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালাচ্ছে ছোট ছেলে ও তার বউ। হাত খরচা বলতে কিছু দেয় না। পেট পুরে খেতেও দেয় না। ওষুধ কেনার পয়সা পর্যন্ত ভীমবাবুকেই জোগাড় করতে হয়। উপরন্তু তার মোবাইলটিও কেড়ে নিয়েছে দু’জনে। এই পরিস্থিতিতে নিজেই কোনওমতে আয় করে পেট চালাচ্ছিলেন ভীমবাবু।

এদিকে ছোট ছেলে চলে যায় কাজে। আর বউমা দীর্ঘক্ষণ কারও সঙ্গে কথা বলতে থাকে। বাড়িতে অচেনা লোক প্রবেশ করে। তা সহ্য করতে না পেরেই প্রতিবাদ করেছিলেন বৃদ্ধ। এই অপরাধেই ছেলে-বউমা মিলে তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে বেদম প্রহার করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমেই পুলিশের কাছে খবর যায়। ঘটনাস্থলে এসে বৃদ্ধকে উদ্ধার করেন পুলিশকর্মীরা। কাঁদতে কাঁদতে ভীমবাবু বলেন, ‘ছেলেকে কষ্ট করে মানুষ করেছি। ওরা মাছ, ডিম খেতে দেয় না। এ নিয়ে মারধর করল।’

ভীমবাবুর বড় ছেলে প্রহ্লাদ শর্মা বলেন,‘আমরা এখন দেবগ্রামে থাকি। বাড়িতে বাবা আর ভাই-বউমা থাকে। কোন ভাবে বাবাকে তাড়াতে পারলে সম্পত্তি ওদের পুরোটা। তাই বাবাকে ওরা দু’জন এদিন গাছে বেঁধে মারধর করেছে।’

অভিযুক্ত ছেলে ও বউমার শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।যদিও এ ঘটনায় কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *