পাঁচমিশালী

গর্ভবতী হয়েছিলেন যে ‘রাজা’

বেশ পুরনো শব্দটি বোঝাতে আমরা প্রায়ই ‘মান্ধাতা’ শব্দটি ব্যবহার করে থাকি। কথায় কথায় বলে ফেলি ‘মান্ধাতার আমল’। কিন্তু আমরা কি জানি এই মান্ধাতা একজন ব্যক্তির নাম?। হয়তো না।

প্রশ্ন আসতেই পারে, কে এই মান্ধাতা?  কী এমন হয়েছিল তার আমলে যে তিনি এত বিখ্যাত হয়ে গেলেন?

চলুন তবে জেনে নেই মান্ধাতার আমলের বৃত্তান্ত।

মান্ধাতা এক রাজার নাম। ‘দ্য প্রেগন্টে কিং’ নামেও পরিচিত তিনি। তিনি ছিলেন সূর্য বংশের রাজা যুবনাশ্বের ছেলে। রামও এই সূর্য বংশেরই রাজা ছিলেন।

মান্ধাতার জন্মের ইতিহাসটাও বেশ অবাক করা। তার বাবা যুবনাশ্বের কোনো ছেলে হচ্ছিল না। তখন তিনি একটি পুত্র সন্তান লাভের আশায় মুনীদের আশ্রমে গিয়ে যোগ সাধনা করতে শুরু করলেন।

দিনের পর দিন নিষ্ঠার সাথে সাধনা করার পর এক সময় মুনীরা তার সাধনায় সন্তুষ্ট হলেন। যুবনাশ্বের পুত্র লাভের জন্য মুনীরা এক যজ্ঞ আরম্ভ করলেন। ভোরের দিকে শুরু হওয়া সেই যজ্ঞ শেষ হলো মধ্যরাতে।

কলসি ভর্তি মন্ত্রপূত জল বেদীতে রেখে তারা গেলেন ঘুমাতে। যাওয়ার আগে নিজেরা নিজেরা বলাবলি করলেন, এই কলসির জল যুবনাশ্বের স্ত্রী খেলে তাদের ছেলে সন্তান হবে।

সে কথা অবশ্য যুবনাশ্ব জানতেন না। রাতে তার খুব তৃষ্ণা পেল। তখন তিনি নিজেই সেই কলসির পানি পান করে ফেললেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে কলসিতে পানির পরিমাণ কমে যাওয়া দেখে অবাক হয়ে গেলেন তারা।

যুবনাশ্বকে জিজ্ঞেস করতেই রাতের ঘটনা পুরোটা খুলে বললেন তিনি। সবটা শুনে মুচকি হেসে ফেললেন মুনীরা। বললেন, সন্তান তাহলে যুবনাশ্বের পেট থেকেই হবে। তবে তারা যুবনাশ্বকে গর্ভধারণের কষ্ট থেকে মুক্তি দিতে এক উপায় বের করলেন। একশ বছর পূর্ণ হলে যুবনাশ্বের পেটের বাম দিক বিদীর্ণ করে ভূমিষ্ঠ হলেন মান্ধাতা।
পৌরাণিক এই ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু গল্প লেখা হয়েছে, যেখানে যুবনাশ্বকে বলা হয়েছে ‘দ্য প্রেগনেন্ট কিং’। একই নামে দেবদূত পৌত্তনিকের একটি বইও আছে।

সে যা-ই হোক, ছেলে হয়ে যাওয়ার পরে এবার দেখা দিল আরেক সমস্যা। মান্ধাতাকে তো কোনো মা গর্ভে ধারণ করেনি। ফলে বুকের দুধ সে কোথায় পাবে? এখন বুকের দুধ ছাড়া মান্ধাতা বাঁচবেই বা কী করে? জটিল এই সমস্যার সমাধান দিতে এগিয়ে এলেন স্বয়ং ইন্দ্র। তিনি নিজে মান্ধাতাকে খাওয়ানোর দায়িত্ব নিলেন। তার মুখে নিজের তর্জনী পুরে দিয়ে বললেন, “মাম ধাস্যতি”, মানে আমাকে পান করো।

সেখান থেকেই পুত্রটির নাম রাখা হয় মাম-ধাতা বা মান্ধাতা। ইন্দ্রের সেই আঙুল ছিল অমৃতক্ষরা। মানে সেই আঙুল দিয়ে অমৃত ঝরত। ইন্দ্রের সেই আঙুলের গুণে মান্ধাতা এক দিনেই দেহসৌষ্ঠবের দিক থেকে তারুণ্যে পদার্পণ করে। পড়াশোনা এবং অস্ত্রবিদ্যায় বেশ পারদর্শিতা অর্জন করে মান্ধাতা।

পরে রাজা হয়ে মান্ধাতা পৃথিবী-বিজয়ে বের হয়। যুদ্ধ করতে করতে মান্ধাতা সারা পৃথিবী-ই জয় করে ফেলে। শেষমেশ ও পৃথিবী-বিজয় শেষ করে স্বর্গরাজ্য জয় করতে যায়। তখন ইন্দ্র ওকে বলেন, “তুমি তো এখনও পুরো পৃথিবী-ই জয় করতে পারনি। মধুর পুত্র লবণাসুর এখনও তোমার অধীনতা স্বীকার করেনি। আগে তা করে এস, তারপর না হয় স্বর্গ জয়ের কথা ভেবে দেখ’। লবণাসুরের সঙ্গে যুদ্ধে মান্ধাতা নিহত হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *