রাজনীতি

যুক্তফ্রন্টকে ২ বছর দেশ চালাতে দিতে হবে, দাবি মান্নার

বিএনপির সঙ্গে ঐক্য করে ক্ষমতায় যেতে চায় যুক্তফ্রন্ট। তবে শর্ত একটাই নবগঠিত এই জোটের দলগুলো ও তার নেতৃত্বকে অন্তত দুই বছর দেশ চালাতে দিতে হবে। সারাবাংলা.নেটকে এ কথা বলেছেন যুক্তফ্রন্টের শরিক দল নাগরিক ঐক্য’র আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। ভোটের রাজনীতিতে জয়ী হতে বিএনপির সামর্থ্যকে বড় একটি শক্তি বলেও মনে করছেন তিনি।

নবগঠিত রাজনৈতিক জোট যুক্তফ্রন্টের আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও কৌশল নিয়ে সারাবাংলার সাথে আলাপচারিতায় মান্না এসব কথা বলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের লোকজন নেই, শক্তি নেই। বিএনপির লোকজন আছে, শক্তি আছে। সে জন্য বিএনপির সঙ্গে আমরা (যুক্তফ্রন্ট) ঐক্য করতে চাচ্ছি। আশা করি, বিএনপির সঙ্গে যুক্তফ্রন্টের ঐক্য হবে। আর আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপিও অংশ নেবে।

নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট আসন ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনা করেছে কি না— জানতে চাইলে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মান্না বলেন, বিএনপির সঙ্গে আমাদের কোনো আসন ভাগাভাগি নিয়ে জটিলতা নেই। আসন যাই দেই, তারা সেটি মেনে নেবে। তবে চুক্তি থাকবে একটি— যুক্তফ্রন্টকে দুই বছর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিতে হবে। ওই দুই বছর দেশবাসীকে দেখাব, কিভাবে দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতি-সন্ত্রাস নির্মূল করে একটি বিশ্বাসযোগ্য সমাজ প্রতিষ্ঠা করা যায়।

এই লক্ষ্য অর্জনে যুক্তফ্রন্টের কর্মসূচি কী থাকবে? সে প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা আন্দোলনে যাবো। আমাদের আন্দোলনে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি আসবে। খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যাবে না বলে যে দাবি তুলেছে, সেই দাবির সঙ্গে আমরাও একমত হবো।

যুক্তফ্রন্টের অন্যতম এই সমন্বয়ক বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনার কোনো কাঠামো কোনো সরকারই ঠিক করতে পারেনি। যারাই গণতন্ত্রের লেবাস পরে মসনদে বসেছেন, তারাই স্বৈরাচার হয়ে গেছেন। কিন্তু যুক্তফ্রন্টের উদ্দেশ্য একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গড়া। আমাদের উদ্দেশ্য গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই। আওয়ামী লীগকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য আমাদের আন্দোলন নয়, আমাদের আন্দোলন অবিশ্বাসে ভরা সমাজকে ভেঙে বিশ্বাসের একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই অভিযোগ করেছেন, অশুভ শক্তিকে ক্ষমতায় আনতে তৎপর যুক্তফ্রন্ট। এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মান্না বলেন, ‘কোনো অশুভ শক্তিকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য আমরা আন্দোলনে যাচ্ছি না। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের বক্তব্য মুখস্ত বুলি। আসলে দেশে অশুভ শক্তি ক্ষমতায় আনার ষড়যন্ত্র সরকারি দলই করছে।’

সরকার যদি কোনো ষড়যন্ত্র না করে থাকে, তাহলে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন দিয়ে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতায় দিয়ে মাঠে রাখার দাবি জানান মান্না।

তিনি আরও বলেন, আজকে যে বৃহত্তর ঐক্য হতে যাচ্ছে, এই ঐক্য হলে ভোটের ফল কী হবে? প্রধানমন্ত্রী কি ভোটের ফল মেনে নেবেন? আমার তো মনে হয়, তিনি মেনে নেবেন না। এজন্য তিনি বলেছেন, জনগণ ভোট না দিলে চলে যাবেন। ভোটের ফল মেনে নেবেন, তা বলেননি।

বিদেশি একটি দূতাবাসের সহায়তায় আপনারা আন্দোলন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন— বিভিন্ন মহল থেকে যুক্তফ্রন্টের বিরুদ্ধে আনা এমন অভিযোগের প্রসঙ্গে মান্না বলেন, ‘আমরা বিদেশিদের সঙ্গে কোনো আঁতাত করি না। আঁতাত তো প্রধানমন্ত্রী করছেন। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীসহ আশপাশের দেশগুলোর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন কথা বলছেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *