রাজনীতি

‘প্যানেল কি জানে খালেদা জিয়াকে ডিফেন্স করে খুব বেশি লাভ হবে না?’

খালেদা জিয়া দোষী— তার আইনজীবী প্যানেল এ কথা জানেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে কারণেই তারা ‍পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে বসা আদালতে খালেদা জিয়াকে ডিফেন্স করতে যাননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, তার (খালেদা জিয়া) সুবিধার জন্যিই জেলখানায় কোর্ট বসেছে। সেখানে খালেদা জিয়া হাজির হয়েছে, তার আইনজীবী প্যানেল যায়নি। এই যে আইনজীবীরা গেল না, এখানে আমরা কি মনে করব যে প্যানেল জানে খালেদা জিয়া দোষী? প্যানেল কি জানে তাকে ডিফেন্স করে খুব বেশি লাভ হবে না? তারা কি জানে খালেদা জিয়াকে নির্দোষ প্রমাণ করা যাবে না?

বৃহস্পতিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভার সূচনা বক্তব্যে  তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সাধারণ মানুষ এটাই ধরে নেবে। না হলে যেখানে কোর্ট বসবে সেখানেই আইনজীবী যাবে। যেখানে জজ সাহেব বসবেন, মামলা পরিচালনা করতে হলে আইনজীবীরা সেখানে যাবেন— এটাই তাদের কাজ। তারা গেলেন না, খালেদা জিয়াকে বয়কট করলেন কেন?’

তিনি  আরও বলেন, ‘আদালতে জজ সাহেব বসে আছেন, আসামিও হাজির। তার আইনজীবীরা যাননি। এটা হতে পারে, তারা বয়কট করেছে বলে যায়নি।’

দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিচারের মুখোমুখি হওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘অপরাধী অপরাধীই, তার বিচার হবেই। এখানে কোনো রাজনীতি নেই, প্রতিহিংসা নেই।’ খালেদা জিয়ার বিচার নিয়ে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতারা বলেন প্রতিহিংসা। প্রতিহিংসা কিসের? আমরা কি এতিমের টাকা ভাগ-বাটোয়োরা করে খেতে চেয়েছিলাম?’

খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা ও নিরাপত্তা বিবেচনা করেই কারাগারে আদালত বসানো হয়েছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কারাগারে আদালত বসানো যায়। বিডিআরের মামলার বিচার কারাগারে কোর্ট বসিয়ে করা হয়েছে। জিয়াউর রহমানও তো কারাগারে কোর্ট বসিয়ে বিচার করেছিল। জিয়াউর রহমান সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিল বলেই কি জেলে কোর্ট বসিয়ে বিচার করতে পারবে? তাহলে তারা (বিএনপি) বলুক, জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিল।’

কারাগারের ভেতরে আদালত বসানো সংবিধানের লঙ্ঘন— বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্য আমাদের, যে দলের জন্ম হয়েছে অসাংবিধানিক উপায়ে, সংবিধান লঙ্ঘন করে দল গঠনকারী যারা, তাদের কাছে আমাদের সংবিধান শিখতে হবে। এখানে অসাংবিধানিকটা কী হলো? তার মানে জিয়া অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতায় এসেছিল বলে সে জেলগেটে বিচার করতে পারবে, বাকিরা পারবে না? তারা যদি সেটা বোঝাতে চায়, তো বলুক।’

কারাগারে আদালত বসানোর ঘটনাকে বিএনপির পক্ষ থেকে ক্যামেরা ট্রায়াল অভিহিত করার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটা ক্যামেরা ট্রায়াল নয়। পুরো দরজা খোলাই ছিল।’ বিএনপি নেতাদের প্রতি   প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘ক্যামেরা ট্রায়ালে কোথায় বিচার হচ্ছে? দরজা তো খোলাই ছিল। তার (খালেদা জিয়ার) আইনজীবীরা ভেতরে যান নাই। তাদের (বিএনপির) কোনো কোনো আইনজীবী গেটে গিয়ে বসেছিল। কিন্তু কোর্টের রুমে ঢুকেন নাই। তারা আশপাশে বসেছিল। অবাধে সবাই যাতায়াত করতে পেরেছে। এটা কীভাবে ক্যামেরা ট্রায়াল হয়?’

তিনি আরও বলেন, “বলা হয়েছে, টাকা রেখে দেওয়া হয়েছে। ’৯১ সালে টাকা এলো, এত বছর রেখে দেওয়া হলো, এতিমরা টাকা পেল না কেন? ২৫ বছর ব্যাংকে  টাকা রেখে খালেদা জিয়া তার সুদ খেলো। আপন মনে করে টাকা রেখে দিলো। এতিমখানার যে ‘জিয়া অরফানেজ’ নাম দিলো, ঠিকানাও দেখাতে পারেনি, এতিমখানাও দেখাতে পারেনি। এতিমখানার নামে টাকা নিজে আত্মসাৎ করে বসে আছে। এতিমের টাকা চুরি করে কেউ জেলে গেলে তার দায়-দায়িত্ব কার?” তিনি আরও বলেন, ‘১০ বছর বসে তার আইনজীবীরা প্রমাণ করতে পারলেন না তিনি নির্দোষ। এ দোষটাও কি আমাদের সরকারের?’

ড. কামাল হোসেনসহ কয়েকজন রাজনীতিবিদের জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া গঠনের প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের বিকল্প থাকুক, এটা আমরাও চাই। এখানে উচ্চশিক্ষিত জ্ঞানী-গুণী আইনজীবী, হোমরা-চোমরাদের অনেকেই আছেন। আমরাও চাই তারা আসুক, নির্বাচনে অংশ নিক। তবে তারা যেন স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীসহ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে কাছে না টানেন— এটাই আশা করি।’

ড. কামালকে ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তিনি নিজেকে সংবিধান প্রণেতা হিসেবে দাবি করেন। তাহলে তিনি কীভাবে সংবিধানের বাইরে গিয়ে নির্বাচনের কথা বলেন, সরকার গঠনের কথা বলেন?

সরকারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে নৌকা মার্কায় আবারও ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় ছিল বলেই বাংলাদেশের উন্নয়ন হয়েছে। বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়েছে, সেভাবেই এগিয়ে যাবে। এই উন্নয়নের গতিধারা ধরে রাখতে হলে অবশ্যই নৌকায় ভোট দিতে হবে। আর এই ধারা অব্যাহত রাখতে পারলেই ৩০ লাখ শহীদের রক্তে অর্জিত স্বাধীনতা অর্থবহ হবে। এর জন্য দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি আনতে হবে। আর এটা একমাত্র আওয়ামী লীগই আনতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৈঠকে কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *