রাজনীতি

‘নির্বাচনকালীন সরকারের কথা প্রধানমন্ত্রী জানেন, অর্থমন্ত্রী নয়’

একদিন আগেই আগামী জাতীয় নির্বাচন ও নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের সম্ভাব্য তারিখ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ঠিক এর পরদিনই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানালেন, নির্বাচন এবং নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কিত সবকিছু জানেন একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রাজশাহী জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সফর নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

একাদশ জাতীয় নির্বাচন আগামী ২৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে পারে এবং ওই নির্বাচনকে মাথায় রেখে আগামী ২০ দিনের মধ্যে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে বলে বুধবার (৫ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী

আজ বৃহস্পতিবার দলীয় এক সভায় অর্থমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় ওবায়দুল কাদেরের কাছে। জবাবে তিনি স্পষ্ট বলে দেন, ‘নির্বাচনকালীন সরকার কখন হবে, সাইজ কেমন হবে, আকারে ছোট হবে না বড় হবে, কেবিনেটে কতজন থাকবে— সেটা একমাত্র প্রধানমন্ত্রীই জানেন, অর্থমন্ত্রী নয়।’

‘জাতীয় ঐক্য’ গড়ে তুলতে বিরোধী দলগুলোর সাম্প্রতিক তৎপরতার সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দল আওয়ামী লীগ। কাজেই আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্যের কথা হাস্যকর। আওয়ামী লীগ আছে, জাতীয় পার্টি আছে, ১৪ দল আছে— এই সবাইকে বাদ দিয়ে যে ঐক্য, সেটা জাতীয় ঐক্য নয়, সাম্প্রদায়িক ঐক্য।’

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের ঐক্যে বিশ্বাসী। প্রয়োজন হলে আওয়ামী লীগ সেই ঐক্যের ডাক দেবে।

আওয়ামী লীগ নির্বাচ‌নে অনিয়ম করে জিতেছে— বিএন‌পি নেতা‌দের এমন বক্ত‌ব্যের জবা‌বে ওবায়দুল কাদের ব‌লেন, এর আগে পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি জিতে‌ছে। তাহলে কি বিএনপি অনিয়ম করে জিতেছে? জালিয়াতি করে আওয়ামী লীগ নয়, বিএনপিই ক্ষমতায় এসেছে।

দ‌লীয় নেতাকর্মী‌দের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের ব‌লেন, ‘জনমতের ভিত্তিতে নমিনেশন দেওয়া হ‌বে। যে বেশি গ্রহণযোগ্য, তাকে মনোনয়ন দেওয়া হ‌বে। যত প্রভাবশালী নেতাই হোন না কেন, জনমত পক্ষে না থাকলে নমিনেশন পাবেন না। য‌দি নমিনেশন না পে‌য়ে কেউ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করেন, তাদের শাস্তি দেওয়া হবে।’

মতবিনিময় সভায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, রাজশাহীর মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সবুর, উপদফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়াসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *