রাজনীতি

নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সমীকরণ ঘটবে: কাদের

সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য’ গঠন প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সোমবার (১৭ সেপ্টম্বর) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডি আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের মাধ্যমে তিনি স্বাগত জানান

ড. কামাল-বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন নতুন জোট প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জাবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন আসছে বিভিন্ন ধরণের সমীকরণ ঘটবে। আমরা মনে করি এটা গণতন্ত্রের বিউটি। আমরা স্বাগত জানাই।

তিনি বলেন, আমরা যতটুকু জানি ড. কামাল হোসেন সাহেব বলেছেন জামায়াতের সঙ্গে আমরা নেই, আবার কাদের সিদ্দিকিও একই কথা উচ্চারণ করেছেন। নির্বাচনী সমীক্ষা মেরুকরণে কখন যে কোনটা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, কোথাকার পানি কোথায় গিয়ে গড়ায় এই মুহূর্তে বলা খুব মুশকিল। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জোট গঠনের প্রক্রিয়াকে আমরা স্বাগত জানাই। এর বিরুদ্ধে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই।

বিএনপির জাতীয় ঐক্য প্রসঙ্গে কিনি বলেন, বিএনপির যে জাতীয় ঐক্য সেটি হচ্ছে জাতীয়তাবাদী সাম্প্রদায়িক ঐক্য। তাদের নিজেদের ঐক্য। যারা নিজেদের ঘরের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ নয়, তারা দেশে কীভাবে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করবে।

তিনি বলেন, তারা একে অন্যকে সরকারের দালাল বলে। অফিসে রোজ রোজ তাদের মধ্যে ঝগড়াঝাটি হয়। এটা কে না জানে। ফেসবুকের কল্যাণে অনেক কথা বেরিয়ে আসে, অনেক পত্রপত্রিকায়ও এসব রিপোর্ট হচ্ছে।

আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য হতে পারে না দাবি করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশের সবচেয়ে জনসমর্থন পূর্ণ ও প্রাচীনতম দল আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য করবে এটা হতে পারে না। তাদের নিজেদের তথাকথিত জাতীয়তাবাদী জাতীয় ঐক্য, সাম্প্রদায়িক ঐক্য।

বিএনপি দেশের জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন জানিয়ে কাদের বলেন, জাতিসংঘের মহাসচিব বিএনপির মহাসচিবকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এ ধরনের ভাওতা প্রতারণা যারা জাতির সঙ্গে করে তাদেরকে কী বলবো? ইনভাইটেশনতো নেই। যখন ফখরুল ইসলাম নিউইয়র্কে গেলেন তখন জাতিসংঘের মহাসচিব ঘানায়। যিনি দাওয়াত দিলেন তিনি ঘানায় চলে গেলেন, ফখরুর সাহেবকে আমন্ত্রণ জানিয়ে।

তিনি বলেন, আমরা যেটা শুনলাম তারা জাতিসংঘের সদর দপ্তরে গিয়ে গেট থেকে বার বার অনুরোধ করেছেন একটু বসার জন্য, যে পর্যায়েরই হোক। পরে বিরক্ত হয়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি কিছুটা সময় দিয়েছেন। কিন্তু আলোচনার পর জাতিসংঘ থেকে যে কমেন্টটি এসেছে সেটি হচ্ছে আমরা চাই বাংলাদেশে অবাধ সুষ্ঠু একটা নির্বাচন হোক। এই কথা তো বলেই আসছে। এই কথার জন্য তো ফখরুল ইসলামের নিউ ইয়র্কে যাওয়ার কথা ছিল না, জাতিসংঘ সদর দপ্তরে যাওয়ার কথা ছিল না। আবার লবিষ্ট নিয়োগ করেছেন। স্টেট ডিপার্টমেন্টও কথা বলেছেন, কোথাও কোনো আমন্ত্রণ তাদের কেউ করেনি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের বক্তব্য হচ্ছে বিএনপি দেশের জনগণের কাছে যে ভাওতা প্রতারণামূলক কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন সেই প্রশ্নের জবাব তাদের দিতেই হবে। মিথ্যাচার প্রতারণায় তারা বিশ্ব রেকরর্ড করেছে। যারা জাতিসংঘের মহাসচিবের নামে মিথ্যচার করে, প্রতারণা করে তাদের হাতি কি গণতন্ত্র কখনো নিরাপদ?

আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের এই শীর্ষ নেতা বলেন, আমি সবাইকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, নির্বাচনটা কিন্তু সরকারের অধিনে হবে না, সরকার সহযোগিতা করবে। নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশিনের অধিনে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সরকারের সব সংস্থা অফিস নির্বচানের সময় নির্বাচন কমিশনের অধিনে ন্যস্ত হবে। সুতরাং নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়াসহ অনেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *