রাজনীতি

শিলংয়ে সালাহ উদ্দিনের রায় ১৫ নভেম্বর

ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে দায়ের করা মামলার রায় ১৫ নভেম্বর।

শুক্রবার (২৮ সেপ্টেম্বর) শিলংয়ের বিচারিক হাকিম ডি জি খারশিংয়ের আদালত রায়ের নতুন এ তারিখ নির্ধারণ করেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেসউইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান সারাবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ১৩ আগস্ট শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখেন আদালত। পরে রায় ঘোষণার জন্য ২৮ সেপ্টেম্বর দিন ঠিক হয়। সালাহ উদ্দিনের পক্ষে আইনি লড়াই করছেন এডভোকেট এসপি মাহন্ত।

বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ভারতে ঢোকার অভিযোগে ফরেনার্স অ্যাক্টের ১৪ ধারায় দায়ের করা এ মামলা চলছে গত  তিন বছর ধরে। অবশ্য সালাহ উদ্দিনের আইনজীবী আদালতে বলেছেন তাকে (সালাহ উদ্দিন আহমেদ) বাংলাদেশ থেকে অপহরণ করা হয়েছিল।

সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ১৯৯১-৯৬ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার এপিএস ছিলেন সালাহ উদ্দিন আহমেদ। পরে চাকরি ছেড়ে কক্সবাজার থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০১-০৬ মেয়াদে চার দলীয় জোট সরকারের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

৫ জানুয়ারি নির্বাচনের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি খালেদা জিয়ার ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধ এবং দফায় দফায় হরতালের মধ্যে সালাহ উদ্দিন আহমেদ আত্মগোপন থেকে নিখোঁজ হন।

সহিংস আন্দোলনের মধ্যে বিএনপির নেতারা একের পর এক গ্রেফতার ও আত্মগোপনে যাওয়ার পর অজ্ঞাত স্থান থেকে দলের মুখপাত্র হিসেবে বিবৃতি পাঠিয়ে কর্মসূচি দিচ্ছিলেন সালাহ উদ্দিন। এরই মধ্যে ১০ মার্চ রাতে উত্তরার একটি বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তার স্ত্রী হাসিনা আহমেদ।

ঢাকা থেকে অন্তর্ধান হওয়ার দুই মাস পর ২০১৫ সালের ১১ মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে হদিস মেলে সালাহ উদ্দিনের। কিন্তু ভ্রমণের কাগজপত্র দেখাতে না পারায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।

কিছুদিন কারাগার ও হাসপাতালে কাটানোর পর স্বাস্থ্যের অবস্থা বিবেচনায় জামিন মুক্তি পান সালাহ উদ্দিন আহমেদ। কিন্তু ভারত ছাড়ার অনুমতি পাননি তিনি। এমন পরিস্থিতিতে স্ত্রী হাসিনা আহমেদ ও কয়েকজন স্বজন নিয়ে শিলংয়ে থাকতে হয় তাকে।

২০১৬ সালে অসুস্থতার কারণে দিল্লি গিয়ে চিকিৎসা করিয়ে আসেন সালাহ উদ্দিন আহমেদ। পরিবার তাকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নিতে চাইলেও তাতে শিলংয়ের আদালত সে অনুমতি দেননি। দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর আইনি লড়াই শেষে শুক্রবার রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এদিন রায় ঘোষণা না করে নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত। এ নিয়ে চার দফা তারিখ পরিবর্তন হলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *