রাজনীতি

আইনের আশ্রয় নেওয়া নয়, গুজব শনাক্তই হবে সেলের কাজ : তারানা

‘আমাদের কাজটা একটা জায়গায় গিয়ে শেষ হয়ে যাবে। আমরা শুধু তথ্য দেব যে এটা গুজব। কারণ একটি বিষয় গুজব, এটি বলতে বলতে গুজবটি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। গুজবটায় মানুষ যেন বিভ্রান্ত না হয়, সেজন্য দ্রুততার সাথে সাথে তা জানাব। আইনের আশ্রয় নেওয়া আমাদের কাজ নয়, মামলা করাও আমাদের কাজ নয়। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এমন পরামর্শ দেওয়াও আমাদের কাজ নয়। এই সেলের কাজ হচ্ছে এটি গুজব, এখানে যাতে কেউ বিভ্রান্ত না হয় -সেটা বলা।’

বুধবার ( ৯ অক্টোবর)  তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে গুজব সনাক্তকরণ সেল (Rumor Monitoring Cell) এর কার্যক্রম নির্ধারণ ও সহযোগিতা কার্যকর বিষয়ক অন্ত: মন্ত্রণালয় সভার আগে সাংবাদিকদের এসব বলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

তিনি বলেন, আমাদের মনে হয়েছে, কাজটা কতটুকু এগিয়েছে তা জানতে চাই। সেটার জন্য শুধু তথ্য অধিদফতরের উপর নির্ভর করলে চলবে না। এ কারণে আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে একটি কমিটি গঠন করব, যেখানে অন্য যে বিভাগ আছে তাদেরও আমরা সংযুক্ত করতে চাই। তাহলে সুন্দর টিম ওয়ার্ক হিসেবে আমরা কাজ করতে পারব। এখানে ইনফরমেশন আসবে, যাচাই-বাছাইয়ের কাজ আছে। এখানে যদি তথ্য শেয়ারিং না হয় তাহলে এটা সঠিকভাবে কাজ করবে না। সে কারণেই এটাকে আমরা একটা গ্রুপের আকার দিতে চাই।

এই সেল কি আজকে থেকেই ফর্মালি কাজ শুরু করল-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কাজ আসলে ইনফর্মালি শুরু হয়েছে। কিন্তু আমরা যেভাবে চাচ্ছি সেভাবে করতে হলে আরেকটু মনোযোগ দিয়ে এগুতে হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা যখন প্রথম জানাতে পারব যে এটি গুজব, সেদিন থেকেই আমরা মনে করব সফলতার পথে পা দিয়েছি এবং কার্যকর একটা ভূমিকা রাখতে পেরেছি। তার আগ পর্যন্ত আমি বলতে চাই না আমরা কাজ শুরু করেছি।

আসছে নির্বাচনে গুজব ছড়াবে বলে কি আপনারা আশংকা করছেন? আর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই সেল করেছেন কীনা-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেটা থেকে  আমরা তা করছি না। আপনারা যদি বলেন গুজবের বিরুদ্ধে কেউ কাজ করছে না তা কিন্তু নয়। আমাদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট আছে তারা প্রত্যক্ষভাবে এগুলো নিয়ে কাজ করছে। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা প্রতিনিয়ত কাজ করছে। এটুআই তাদের মত করে কাজ করছে। প্রত্যেকেই কিন্তু নিজেদের মত কাজ করছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, তথ্য মন্ত্রণালয় এখানে সম্পৃক্ত হওয়া প্রয়োজন। তথ্য মন্ত্রণালয় হবে তথ্যের উৎস, আমরা তথ্য বিতরণও করব। এই ভাবনা থেকেই এ উদ্যোগটা নেওয়া।

তিনি বলেন, তথ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করা হবে যে কোন গুজবটা অনলাইনে ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে, রাষ্ট্রকে বিভ্রতকর অবস্থায় ফেলে দেয়, যে কোনো আন্দোলনকে অসত্য তথ্য বা গুজব দিয়ে উস্কে দেওয়া, এই ধরণের গুজবগুলো আমরা আইডেন্টিফাই করব। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিভাগগুলো আমাদের সহযোগিতা করবে। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা আমাদেরকে বলবেন যে, এ গুজব অনলাইনে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারপর আমাদের ভেরিফিকেশন প্রসেসেটা কি হবে সেটির বিষয়েও  আমরা আলোচনা করছি। অর্থাৎ আমাদের যারা স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা আছেন, একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলে যে গুজবগুলো ছড়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে যে চিঠিগুলো পাঠাব বিভিন্ন থানার ওসিদের কাছে। যদি কোনো গুজব ছড়ায় তখন  তথ্য মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করার সঙ্গে-সঙ্গে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে করে জানাবে -এটি গুজব কি না। গুজব না হলে এখানে আমাদের কোনো কাজ থাকবে না। গুজব হলেই আমরা জানাব এটি গুজব।

তিনি আরও বলেন, আমাদের ইনফরমেশন শেয়ারিংয়ের জন্য আমরা অনুরোধ করছি গোয়েন্দা সংস্থাদের এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিভিন্ন বিভাগকে। সেটি আমরা আনুষ্ঠানিকভাবেই পত্রের মাধ্যমে জানাব। গুজবের তথ্য পাওয়ার পর তথ্য অধিদপ্তর, র‍্যাব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে গুজবের বিষয়টি নিশ্চিত হবার পর প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিকস এবং অনলাইন মিডিয়াকে জানাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *