স্বাস্থ্য

স্ট্রেস কমাতে যা খাবেন, যা করবেন, যা করবেন না

লাইফস্টাইল ডেস্ক।।

জীবনে অতিমাত্রায় স্ট্রেস থাকলে তা ব্যক্তিগত জীবন ও ক্যারিয়ার বিপর্যস্ত করে দিতে পারে। ফিজিক্যাল কিংবা ইমোশনাল যেকোন ধরনের স্ট্রেস মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
শারীরিক অনেক ধরনের অসুখ-বিসুখের কারণ হয় স্ট্রেস। যেমন- হার্টের সমস্যা, মাথাব্যথা, আলসার, চেহারায় বয়সের ছাপ, উচ্চ রক্তচাপ, রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাওয়া সহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। স্ট্রেস কমানোর জন্য কিছু খাবার খুব কার্যকরী।
আসুন জেনে নেই স্ট্রেস কমায় এমন কিছু খাবারের কথা।

প্রোটিন জাতীয়

ডিমের সাদা অংশ, মাছ, চর্বি ছাড়া মাংস যেমন মুরগির মাংস, ডাল, সাগুদানা, পনির, শুকনো খেজুর –  এই খাবারগুলোতে প্রচুর পরিমাণে অ্যামিনো অ্যাসিড আছে, যা স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে।

ভিটামিন বি

ছোলা, পালং শাক, কলা, ওট, কাজু, তিল, মিষ্টি আলু, আলমন্ড মিল্ক এই খাবারগুলোতে আছে ভিটামিন বি। শরীর থেকে সেরোটনিন নিঃসরণ করে ভিটামিন বি। এই খাবারগুলো বিপাকে সাহায্য করে।
ফুলকপি, বাদাম, স্ট্রবেরি, আনারস, সবুজ টমেটো, লেটুস নিয়মিত খেতে হবে। কারণ এগুলোতে রয়েছে ভিটামিন বি ও ভিটামিন সি। যা ক্লান্তি কাটাতে সাহায্য করে। স্ট্রেস ঝেড়ে ফেলতেও এই খাবারগুলো উপকারি।

জিঙ্ক

মসুর ডাল, চীনাবাদাম, মাশরুম, সয়াবিন, লাল আটার রুটি, সামুদ্রিক মাছ, গরু-খাসির কলিজায় জিঙ্ক থাকে। প্রতিদিন আমাদের শরীরের জন্য ১৫ মিলিগ্রাম জিঙ্ক প্রয়োজন হয়। খাদ্য তালিকায় জিঙ্কের অভাব হলে স্ট্রেস তৈরি হয়। শরীরে জিঙ্কের ঘাটতি পূরণের জন্য নিয়মিত এই খাবারগুলো খাওয়া উচিত।

ম্যাগনেসিয়াম

কলা, সবুজ শাক, লাউ, বেদানায় রয়েছে ম্যাগনেশিয়াম। অ্যাড্রিনাল গ্ল্যান্ডের কার্যকলাপ সক্রিয় রাখতে ম্যাগনেশিয়াম জাতীয় খাবার খাওয়া প্রয়োজন যা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।

অন্যান্য খাবার

লেবু, পেয়ারা, কমলালেবু, সবুজ শাকসবজি, ডার্ক চকলেট, গাজর, তিলের বীজ ও নারকেল নিয়মিত খাবেন। অতিরিক্ত স্ট্রেস থেকে ফ্রি-র‌্যাডিক্যালসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই খাবারগুলো স্ট্রেস কমাতে সহায়তা করে।

 

খেয়াল রাখুন

১. সকালে অবশ্যই নাস্তা করবেন। কাজের তাড়া থাকলেও নাস্তা বাদ দেবেন না। নাস্তায় ভারি খাবার খাবেন। কারণ সারাদিনের কাজে শক্তি যোগায় সকালের নাস্তা। ক্লান্তিও দূর করে।

২. চা, কফি যতটা সম্ভব কম খাবেন। এতে স্ট্রেস কম থাকবে। কফির বদলে গ্রিন টি খাওয়ার অভ্যাস করতে পারলে ভাল। অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ গ্রিন টি সারাদিন ক্লান্তিহীন থাকতে সাহায্য করে। রাতের খাবারের পর চা কিংবা কফি খাবেন না। এতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

৩. অনেকের দুপুরে খাওয়ার পর ঘুমানোর অভ্যাস আছে। দুপুরে ঘুমালে রাতের ঘুমে সমস্যা হতে পারে। তাই দুপুরবেলার ক্লান্তি কাটানোর জন্য ৩০ মিনিট চোখ বন্ধ করে থাকতে পারেন। যারা অফিস করেন তারা দুপুরে খাবারের জন্য রেস্তোরায় না গিয়ে বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে যেতে পারেন। বাড়ির খাবার স্বাস্থ্যসম্মত বলে মানসিক সুস্থতাও বজায় থাকবে।

৪. বাইরে গেলে পানির বোতল, খেজুর, ফল, হালকা স্ন্যাক্স সাথে রাখুন। অনেকসময় দোকানের কেনা খাবার খেলে অস্বস্তি লাগতে পারে। ফলে স্ট্রেস বেড়ে যায়।

৫.  ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত দুই ঘন্টা আগে রাতের খাবার সেরে ফেলুন।

৬. প্রতিদিন সকালে অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করুন। ব্যায়াম করলে শরীর থেকে এন্ডোফিন বের হয়, যা স্ট্রেস কমায় এবং পজিটিভ চিন্তা ভাবনা জাগিয়ে তোলে।

৭. পর্যাপ্ত পানি পান করুন। পানি খেলে দেহে অক্সিজেন সরবরাহ বজায় থাকে। শরীর থেকে ক্যামিকেল ও টক্সিন বের হয়ে যায়।

৮. ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে মাল্টিভিটামিন ট্যাবলেট খেতে পারেন। এতে শরীর সুস্থ থাকবে এবং স্ট্রেস কমে যাবে।

যা কখনই করবেন না

অতিরিক্ত স্ট্রেসের সময় ফাস্টফুড খাবেন না। এ সময় খাওয়ার গন্ডগোল থেকে ওজন বেড়ে যেতে পারে। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ফল, সবজি, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট জাতীয় খাবার ঠিক পরিমাণে না থাকলে স্ট্রেস আরও বেড়ে যেতে পারে।

আমাদের অনেকের মধ্যে একটি ভুল ধারণা আছে, বেশি পরিমাণে খেলে স্ট্রেস থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। কিন্তু আসল ব্যাপার হল, খুব বেশি পরিমাণে খেলে স্ট্রেস কমানোর বদলে তা বাড়িয়ে তোলে। তাই স্ট্রেস বেশি হলে পরিমাণমত খাবার খান ও ব্যায়াম করুন।

মডেল – সাদিয়া আস্‌ফি তিশা

ফিচার ফটো আলোকচিত্র- মাহাদিউজ্জামান অনিম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *