স্বাস্থ্য

সেলফি তোলা হতে সাবধান থাকুন!

বাউফল প্রতিদিন ডেস্কঃ

জীবন্ত বস্তুর সেলফি তুলা বা প্রচার করা থেকে সাবধান থাকুন। অার বাজে কথা ও লেখা থেকে সাবধান থাকুন, এবং “সতর্কতার সাথে কথা বলুন। (কেননা প্রতিটি কথা রেকর্ড হয়)” [সূরা ক্বফ:১৮]
________________________________

পুরুষদেরকে বলিতেছি…
ভাইয়েরা তোমরা যাহারা, ফেসবুকে মেয়েদের ছবি দেখিয়া থাকো…: এবং উহাতে Like দিয়ে উত্ত মেয়েকে ছবি দেখানোর জন্য গুপ্ত বা সুপ্ত অথবা প্রকাশ্য লালায়িত সভ্য বা মুগ্ধতা প্রকাশ করিয়া ব্যক্ত করে বলিয়া ফেল যে, ‘বাহ; দারুন, nice, cool বা হট’ তোমরা সকলে জানিয়া রাখ যে, সেই দিন কঠিন বিচারের দিবসে তোমাদিগকে অবশ্যই উত্ত মেয়ের পর্দাহীনতার জন্য গুনাহের ভাগীদার হইতে হবে। কারণ, তোমাদের Like প্রদান তাহাকে পুরুষের চোখে পর্দাহীন হওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করিয়াছিল।

.
নারীদেরকে বলিতেছি…
বোনেরা “যে ব্যক্তি জাহেলিয়াতের দিকে মানুষকে অাহবান করে সে জাহান্নামের কয়লা!! যদিও সে সিয়াম পালন করে, সালাত অাদায় করে এবং ধারণা যে সে একজন মুসলিম।” [অাহমাদ/১৭২০৯; মিশকাত/৩৬৯৪]
এই যে ছেলেরা মেয়েদের ছবি ফেসবুকে দেখতে পাচ্ছে দিন-রাত যে কোন সময় এটা জাহেলিয়াত। লাইক দিচ্ছে, বলছে nice, হ্যাঁ এটাই জাহেলিয়াত। যে মেয়ে তার ছবি অাপলোড দিচ্ছে সে জাহেলিয়াতের দিকে অাহবান করছে,
বোন তুমি মুসলিম। শয়তান তোমাকেই এসে বলবে মাথার কাপর নামাতে, শয়তান হিন্দু মেয়ের কাছে যেয়ে বলবে না মাথার কাপর নামাতে। কারণ হিন্দু চিরদিনই জাহান্নামে থাকবে। শয়তানের কাজ তোমার কাছেই, তোমাকেই বলবে ছবি অাপলোড করতে ফেসবুকে। এই লাইক, কমেন্ট এগুলো তোমাকে একদিন অাগুনে পুড়াবে। ভয় কর অাল্লাহকে। ভয় কর জাহান্নামকে তোমার চুল দেখলে পাপ হয়, তোমার শরীর দেখলে পাপ হয়। তোমার দিকে ইচ্ছাকৃত চোখ ফেললেই পাপ হয়, তুমি কি করে বল যে, অামার মন ভাল অাছে? খাচ্ছ তুমি বিষ, অার মুখে বলছ কিছু হবে না; অামি মধু খাচ্ছি! অবাক পৃথিবী, অবাক কান্ড!
.

অাব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত যে রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন,
“কিয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন শাস্তি ভোগ করবে [জীবন্ত বস্তুর ] ছবি তৈরী কারিরা।” (বুখারী /৫৯৫০; মুসলিম/২১০৯)
ইবনে অাব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীস থেকে জানা যায়, রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেছেন,
“যে কেউই ছবি তৈরী করল, অাল্লাহ তাকে [কিয়ামতের দিন] ততক্ষণ শাস্তি দিতে থাকবেন যতক্ষণ না সে এতে প্রাণ সঞ্চার করে, অার সে কখনোই তা করতে সমর্থ হবে না।” [বুখারী/২২২৫;মুসলিম/২১১০]
.

প্রশ্ন: অনেক ছেলেরা বলে ফেসবুকে মেয়েরা ছবি দিলে নাকি গুনাহ হয়, কিন্তু ছেলেদের নাকি গুনাহ হয় না। কথাটা কতখানি যুক্তিসঙ্গত?
উত্তর: মোটেও যুক্তি সংগত নয়। ঐ সমস্ত ছেলেরা জানেনা যে, বিনা প্রয়োজনে ছবি তুলে জায়েজ নয়। অার প্রয়োজনে ছবি তুললেই সেটা শুধুমাত্র উপযুক্ত স্থানে ব্যবহার করতে হবে। যত্র মত্র প্রচার করবেনা। অার নারীর ছবি দ্বারা যেমন পুরুষেরা অাকৃষ্ট হয়? ঐই সমস্ত ছেলেরা কি এটা জানেনা যে, পুরুষের ছবি দ্বারা নারীরাও অাকৃষ্ট হয়?
.

উদাহরণস্বরুপ,
অাপনি যদি ফেসবুকে অথবা টুইটার বা অন্য কোথাও কোন অশ্লীল ছবি কিংবা স্ট্যাটাস পোস্ট করেন, কেয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ তা দেখবে তার একটা অংশ গুনাহ হিসেবে অাপনার অামলনামায় লেখা হতেই থাকবে যা অাপনাকে জাহান্নামের পথে নিয়ে যাবে।
.
পক্ষান্তরে,
অাপনি যদি ফেসবুকে অথবা টুইটার বা অন্য কোথাও কোন ইসলামিক ছবি কিংবা স্ট্যাটাস পোস্ট করেন, কেয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ তা দেখবে তার একটি অংশ নেকী হিসেবে অাপনার অামলনামায় লেখা হতেই থাকবে যা অাপনাকে জান্নাতের পথে নিয়ে যাবে। (ইনশা অাল্লাহ)
.
অাল্লাহ বলেন,
কেই অনুপরিমান সৎকর্ম করলে তা দেখতে পারবে, এবং কেউ অনু পরিমান অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পারবে। [সূরা যিলযাল:৭,৮]
.
অাল্লাহ অমুসলিমদেরকে বলেছেন,
যারা কাফের, যদি তাদের কাছে পৃথিবীর সমদয় সম্পদ এবং তৎসহ অারও তদনুরূপ সম্পদ থাকে অার এগুলো বিনিময় দিয়ে কিয়ামতের শাস্তি থেকে পরিত্রান পেতে চায়, তবুও তাদের কাছ থেকে তা কবুল করা হবে না। তাদের জন্য যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি রয়েছে। তারা দোযখের অাগুন থেকে বের হয়ে অাসতে চাইবে কিন্তু তা থেকে বের হতে পারবে না। তারা চিরস্থায়ী শাস্তি ভোগ করবে।[সূরা অাল মায়িদাহ:৩৬,৩৭ নং অায়াত]
মৃত্যুর পরে জীবন অাছে যদি বিশ্বাস কর এখনো সময় অাছে ইসলাম গ্রহন কর।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু অালাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
দুনিয়া মু’মিনের জন্য জেলখানা এবং কাফেরদের জন্য জান্নাত।[মুসলিম/৭৬০৬]
কুরঅান-হাদীসের দলীল পাওয়ার পরেও যারা মানতে চায় না, তারা মূর্খ। মূর্খদের সাথে তর্ক করতে অাল্লাহ নিষেধ করছেন। [সূরা ফরকান:৬৩]
.

সকল ভাই ও বোনদের অনুরোধ করছি, যাদের প্রোফাইলে জীবন্ত বস্তুর সেলফি অাছে তারা অামার পোস্টে লাইক ও কমেন্ট করবেন না।
অাল্লাহ অামাদেরকে বুঝার তৌফিক দান করুন। অামিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *