শিক্ষা

জেলের ছেলে শাহজাহানের ছেলের জালাল ব্যাংকার হতে চায়!

জেলের ছেলে শাহ-জালালের ব্যাংক কর্মকর্তা হওয়ার ইচ্ছে!

বাউফল প্রতিদিনঃ

কলাপাড়ার কুয়াকাটা সংলগ্ন খাজুরা প্রামের জেলে পল্লীর দুলাল আকনের ছেলে শাহ জালাল এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে।

 

শাহ জালালের পিতা দুলাল আকন পেশায় একজন জেলে। তার ২ ছেলে, ১ মেয়ে ও স্ত্রীর মুখে দু’বেলা দুমুঠো খাবার তুলে দিতে দিন রাত গাধাঁর খাটুনি খাটতে হয় দুলাল আকনকে। এজন্য বছরের পুরো সময়ই বঙ্গোপসাগরে থাকতে হয় তাকে।

 

ছেলের পড়াশুনার খবর নেবার ফুসরত নেই তার। সময় থাকলেই বা কি! তিনি তো পড়াশুনা করেন নি। বছরে একটি জামা কিনে দিতে পারেননি দরিদ্র বাবা। দু’মুঠো ভাল খাবার তুলে দিতে না পারায় ছোট বেলা থেকেই অন্যের বাড়িতে লজিং থেকে পড়াশুনা করেতে হয় শাহ জালালকে। হাজারো প্রতিকূলতা কোন বাঁধাই রুখতে পারেনি জেলে পরিবারের সন্তান অদম্য মেধাবী শাহ জালালকে। চলতি বছর উপজেলার কুয়াকাটা খানাবাদ ডিগ্রি কলেজ থেকে বানিজ্য শাখায় এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে এ সাফল্যতা অর্জন করেছে।

 

শাহ জালালের অদ্যম ইচ্ছা শক্তিই জেলে বাবা দুলাল আকনের হাতিয়ার। ছেলেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার স্বপ্নে বিভোর বাবা ধার লোনও দাদনের টাকায় ঢাকায় পাঠিয়েছে । বাবার সামান্য আয়ে উপজেলার মহিপুর কো-অপ্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ অর্জন করে।

 

এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় কুয়াকাটা খানাবাদ ডিগ্রি কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পায় ওই মেধাবী শিক্ষার্থী। ছেলের এমন ধারবাহিক সাফল্যে বাবা আনন্দে কেঁদে ফেলেন। পরে তিনি এভাবেই বলেন, “মুই তো ল্যাহাপড়া বুঝিনা। পোলায় (ছেলে) ছোট্রকাল হইতে পরের বাড়ি লজিন থ্যাকইয়া পড়ালেখা হরচে, তয় সামনে ওরে আরও লেহাপড়া হরামু, এহন আর শরীলে কুলায় না, কুম্মে পামু ওর ল্যাহাপড়ার এ্যাত্তো টাহা, যদি কেউ এ্যাকটু সাহায্য হরতো, হ্যালে অর লেহাপড়াডা অইতো”।

 

 

মেধাবী শিক্ষার্থী শাহ জালাল জানান, সাগর পাড়ের নোনা জলের মানুষ আমরা। কষ্ট নিয়েই আমার জন্ম। নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে আমি বড় হয়েছি। বাবা মার স্বপ্ন পুরনের লক্ষে উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করে তার মুখে হাসি ফোটাতে চাই। শিক্ষকদের অনুপ্রেরনাই আমি ধারাবাহিক ফলাফল অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। তার ইচ্ছা পাবলিক বিদ্যালয় থেকে বিবিএ এমবিএ করে চ্যাটার্ড এ্যাকাউন্টে পড়ে ব্যাংকের বড় কর্মকর্তা হবার।

 

কুয়াকাটা খানাবাদ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সিএম সাইফুর রহমান খান বলেন, শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের শাহ জালাল নিয়মিত ক্লাশ করতো। মেধাবি ও দরিদ্র হওয়ায় শাহ জালালকে অবৈতনিক করা হয়েছিল। বই কেনার জন্য অর্থিক সহয়াতা এবং বিনা ফিতে ফরম পূরণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *